ধনতেরাসে ভারতীয় শেয়ার বাজারে মিশ্র লেনদেন, সেনসেক্স ১৫০ পয়েন্ট ঊর্ধ্বমুখী হলেও নিফটি ও ব্যাঙ্ক নিফটিতে সামান্য পতন দেখা যায়। তথ্যপ্রযুক্তি (IT) সংস্থার শেয়ারে কেনাকাটা থাকলেও ধাতু ও রিয়েলটি খাতে বিক্রির চাপ বাজারের সামগ্রিক বৃদ্ধিকে সীমিত রাখে।
দীপাবলির আগে ধনতেরাসের দিন, শুক্রবার ৬ নভেম্বর ২০২৬, ভারতীয় শেয়ার বাজারে মিশ্র লেনদেন দেখা যায়। বৃহস্পতিবারের উল্লেখযোগ্য উত্থানের পর শুক্রবার সকালে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। প্রাথমিক লেনদেনে সেনসেক্স প্রায় ১৫০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৯,৪৬০-এর স্তরে পৌঁছয়। অন্যদিকে, নিফটি সামান্য কমে ২৪,৫২০-এর কাছাকাছি অবস্থান করে।
বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সেনসেক্স ১৫০ পয়েন্ট বা ০.১৯% বেড়ে ৭৯,৪৬০.০১ স্তরে লেনদেন করছিল। অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি ৫০ প্রায় ১৬.৬৫ পয়েন্ট কমে ২৪,৫১৯.৯৫ স্তরে পৌঁছয়।
ব্যাঙ্কিং সূচকেও দুর্বলতা দেখা যায়। ব্যাঙ্ক নিফটি ১৯৯.৩০ পয়েন্ট বা ০.৩৪% কমে ৫৭,৫৭৪.৩৫ স্তরে লেনদেন করছিল।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার শেয়ার বাজারে উল্লেখযোগ্য কেনাকাটা দেখা গিয়েছিল। সেদিন সেনসেক্স ২,০০৮.৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৭৯,৩১০.০১ স্তরে বন্ধ হয়েছিল। একইভাবে, নিফটি ৫৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৫৩৬.৬০ স্তরে পৌঁছেছিল।
টানা ছয়টি লেনদেনের অধিবেশনে বৃদ্ধির পর শুক্রবার বিনিয়োগকারীদের একাংশ বেছে বেছে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেন। তবে বিদেশি শেয়ার বাজারগুলিতে বড়সড় পতন সত্ত্বেও ভারতীয় বাজারে তার প্রভাব সকালের আশঙ্কার তুলনায় সীমিত ছিল।
শুক্রবারের প্রাথমিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি কেনাকাটা দেখা যায় তথ্যপ্রযুক্তি (IT) সংস্থাগুলির শেয়ারে। নিফটি IT সূচক প্রায় ২.২৮% বেড়ে লেনদেন করছিল। মিডিয়া সূচকেও ০.১৭% সামান্য বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়।
টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS)-এর শেয়ার প্রায় ২.৩২% বেড়ে ২,৫৫৩.৬০ টাকায় পৌঁছয়। HCL Technologies-এর শেয়ারে ২.১৫% এবং Infosys-এর শেয়ারে ২.০৯% বৃদ্ধি দেখা যায়।
IT খাতের বাইরে Mahindra & Mahindra-এর শেয়ার ২.২৯% বাড়ে। টেলিকম সংস্থা Bharti Airtel-এর শেয়ারেও ১.৮৫% বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়।
![]()
সামগ্রিকভাবে ব্যাঙ্কিং খাতে দুর্বলতা থাকলেও কয়েকটি বড় বেসরকারি ব্যাঙ্কের শেয়ার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। HDFC Bank-এর শেয়ার প্রায় ০.৯২% এবং ICICI Bank-এর শেয়ার ০.৬৭% বেড়ে লেনদেন করছিল। এই বড় সংস্থাগুলির শেয়ারে কেনাকাটা সেনসেক্সকে কিছুটা সমর্থন জোগায়। তবে অন্যান্য কয়েকটি খাতে বিক্রির চাপ থাকায় নিফটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি।
শুক্রবার ধাতু খাতে সবচেয়ে বেশি বিক্রির চাপ দেখা যায়। নিফটি মেটাল সূচক প্রায় ২.০৪% কমে লেনদেন করছিল। রিয়েলটি খাতে ১.১৩%, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক বা PSU Bank সূচকে ১.১৫% এবং অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সূচকে প্রায় ১.১৩% পতন নথিভুক্ত হয়। অটো সূচকও ০.৩৪% কমে যায়।
প্রধান সংস্থাগুলির মধ্যে Hindalco-এর শেয়ার প্রায় ৩.৫৬% কমে যায়। Shriram Finance-এর শেয়ারে ২.৮১% এবং Asian Paints-এর শেয়ারে ২.৫৭% পতন দেখা যায়। Bajaj Finance-এর শেয়ারও প্রায় ১.৯৯% কমে লেনদেন করছিল।
এই সংস্থাগুলির শেয়ারে বিক্রির চাপ বাজারের উপর প্রভাব ফেলে। একদিকে IT সংস্থাগুলির শেয়ার সেনসেক্সকে ঊর্ধ্বমুখী করছিল, অন্যদিকে ধাতু ও আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলির শেয়ারে পতনের কারণে বাজারে ওঠানামা অব্যাহত ছিল।
ভারতীয় শেয়ার বাজারে বড়সড় পতন না হলেও শুক্রবার সকালে এশিয়ার একাধিক প্রধান শেয়ার বাজারে উল্লেখযোগ্য দরপতন দেখা যায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার KOSPI সূচক প্রাথমিক লেনদেনে ৮%-এর বেশি কমে যায়। পতনের তীব্রতার কারণে এক্সচেঞ্জ সার্কিট ব্রেকার কার্যকর করে এবং প্রায় ২০ মিনিটের জন্য লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। জাপানের Nikkei সূচকও প্রায় ৬% কমে যায়। তাইওয়ানের শেয়ার বাজারেও ৮%-এর বেশি পতন দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার মার্কিন শেয়ার বাজারে ব্যাপক বিক্রির প্রভাব এশিয়ার বাজারগুলিতে পড়ে। সেদিন Nasdaq Composite প্রায় ৫.৫% এবং S&P 500 প্রায় ৪.৪% কমে বন্ধ হয়েছিল।
AI সংস্থাগুলির উপর সম্ভাব্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং ডেটা সেন্টারে বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে মার্কিন বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, নতুন নিয়ম চালু হলে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের আয় প্রভাবিত হতে পারে।










