শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ভারতীয় শেয়ারবাজারে দুর্বল সূচনার ইঙ্গিত মিলছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে বড়সড় পতনের পর চাপে রয়েছে GIFT Nifty। এর প্রভাব এশীয় বাজারেও দেখা গিয়েছে। এদিকে Bharti Airtel, LIC, Titan, ONGC এবং Britannia-সহ একাধিক সংস্থার ত্রৈমাসিক ফলাফল শুক্রবারের লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ভারতীয় শেয়ারবাজারে টানা ছয়টি লেনদেনের দিন ধরে চলা উত্থান শুক্রবার থামতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, সেনসেক্স ২,০০৮.৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৭৯,৩১০.০১-এ বন্ধ হয়। অন্যদিকে, নিফটি ৫৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৫৩৬.৬০-এ পৌঁছয়। দুই প্রধান সূচকে যথাক্রমে ২.৬০% এবং ২.৪০% বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়।
ব্যাঙ্কিং, অটোমোবাইল এবং আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলির শেয়ারে কেনাকাটার জেরে বাজারে এই উত্থান দেখা গিয়েছিল। তবে এই বৃদ্ধির পরেও সেনসেক্স তার আগের সর্বোচ্চ স্তরের তুলনায় প্রায় ৬,৮৪৯ পয়েন্ট এবং নিফটি প্রায় ১,৮২২ পয়েন্ট নিচে রয়েছে।
শুক্রবার বাজারের পরিস্থিতি ভিন্ন হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন শেয়ারবাজারে বড়সড় পতন হয়। Dow Jones প্রায় ১,৮৩৩ পয়েন্ট কমে যায়। অন্যদিকে Nasdaq Composite ৫.৫% এবং S&P 500 প্রায় ৪.৪% পতনের সঙ্গে লেনদেন শেষ করে। মার্কিন বাজারে Artificial Intelligence (AI) এবং Semiconductor সংস্থাগুলির শেয়ারে সবচেয়ে বেশি চাপ দেখা যায়।
AI খাতে বিপুল বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য মুনাফা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির সম্ভাব্য কড়াকড়ি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাজারের এই বিক্রির চাপ এশীয় শেয়ারবাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার সকালে GIFT Nifty প্রায় ১৫৯ পয়েন্ট কমে ২৪,৪৪০-এর কাছাকাছি লেনদেন করছিল। ফলে ভারতীয় বাজারে দুর্বল সূচনার আশঙ্কা বেড়েছে।
শুক্রবার Bharti Airtel-এর শেয়ারে লেনদেনের সময় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। জুলাই-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থাটির কনসোলিডেটেড মুনাফা ৩১% বেড়ে ৮,৮৮৭.৫ কোটি টাকা হয়েছে। আগের বছরের একই ত্রৈমাসিকে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ৬,৭৯১.৬ কোটি টাকা। সংস্থার ভারত ও আফ্রিকার ব্যবসা থেকে আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা মিলেছে।
দেশের বৃহত্তম বিমা সংস্থা Life Insurance Corporation of India (LIC)-এর ত্রৈমাসিক ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থাটির কনসোলিডেটেড মুনাফা প্রায় ২০% বেড়ে ১২,১১৪.৭৮ কোটি টাকা হয়েছে। প্রিমিয়াম থেকে আয় এবং বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধির ফলে এই বৃদ্ধি হয়েছে।
![]()
Tata Group-এর Titan Company-র ঘোষিত কনসোলিডেটেড মুনাফা বেড়ে ২,৩৯৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই অঙ্কের মধ্যে এককালীন মুনাফাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই এককালীন মুনাফা বাদ দিলে সংস্থাটির মুনাফা প্রায় ৫৪% বেড়ে ১,৭২২ কোটি টাকা হয়েছে। গয়না, ঘড়ি এবং আইওয়্যার ব্যবসা সংস্থাটির ফলাফলে অবদান রেখেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস সংস্থা ONGC-র কনসোলিডেটেড মুনাফা ৪৬.৯% বেড়ে ১৮,৫৩৪.৮২ কোটি টাকা হয়েছে। আগের বছরের একই ত্রৈমাসিকে এই মুনাফার পরিমাণ ছিল ১২,৬১৪.৬০ কোটি টাকা। ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশের পর শুক্রবার সংস্থাটির শেয়ারের গতিবিধির দিকে নজর থাকবে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা Glenmark Pharma-র ত্রৈমাসিক ফলাফলে মুনাফা কমেছে। সংস্থাটির মুনাফা ৫৬.৭% কমে ২৬৪ কোটি টাকা হয়েছে। একই সময়ে রেভিনিউ প্রায় ২৯.৮% এবং EBITDA ৬৩.৪% কমেছে। এই আর্থিক পরিসংখ্যানের প্রভাব সংস্থাটির শেয়ারের লেনদেনে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, Britannia Industries-এর কনসোলিডেটেড মুনাফা ১০.৮% বেড়ে প্রায় ৭২৬ কোটি টাকা হয়েছে। সংস্থাটির রেভিনিউও বেড়ে প্রায় ৫,৫৯৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
Vedant Fashions-এর মুনাফা সামান্য ০.৩৬% বেড়ে ৫৬.২ কোটি টাকা হয়েছে। সংস্থাটির আয় বেড়েছে ২.৪%।
নমকিন ও স্ন্যাকস প্রস্তুতকারী সংস্থা Bikaji Foods-এর মুনাফা ১১.৩% কমে ৭০.৭৮ কোটি টাকা হয়েছে। তবে একই সময়ে সংস্থাটির রেভিনিউ ১৩.১% বেড়েছে। অর্থাৎ বিক্রি থেকে আয় বাড়লেও মুনাফা কমেছে।
শুক্রবার সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করতে চলেছে Hindalco, Siemens, Aster DM Quality Care, Gland Pharma এবং Jubilant FoodWorks। এছাড়াও Cholamandalam Financial Holdings, Data Patterns এবং Great Eastern Shipping-এর ফলাফলের দিকেও বাজারের নজর থাকবে।
এই সংস্থাগুলির মুনাফা, বিক্রি এবং ব্যবসায়িক ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলিতে ওঠানামা দেখা যেতে পারে।
একদিকে ভারতীয় শেয়ারবাজারে গত ছয়টি লেনদেনের দিন ধরে কেনাকাটা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন বাজারের পতন আন্তর্জাতিক বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার ভারতীয় শেয়ারবাজারের প্রাথমিক গতিবিধির পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার ত্রৈমাসিক আর্থিক ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।











