খাসির মাংস কিনছেন? কোলেস্টেরল, হার্টের রোগ ও ভুঁড়ির ভয় থাকলে ভুলেও নেবেন না এই ৪ অংশ, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ

খাসির মাংসের কোন অংশে সবচেয়ে বেশি চর্বি থাকে? কোলেস্টেরল, হৃদরোগ ও স্থূলতার ঝুঁকি এড়াতে কোন অংশ এড়িয়ে চলবেন এবং কোন অংশ বেছে নেবেন, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

বর্ষা হোক কিংবা উৎসব, বাঙালির পাতে খাসির মাংসের চাহিদা সবসময়ই তুঙ্গে। তবে স্বাদের সঙ্গে স্বাস্থ্যকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ খাসির কিছু অংশে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালোরির পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, হৃদরোগ, ওজন বৃদ্ধি এবং হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই মাংস কেনার আগে এই তথ্যগুলি জেনে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাসির কোন ৪ অংশে সবচেয়ে বেশি চর্বি?

ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, খাসির পাঁজর, পেটের অংশ, বুকের অংশ এবং লেজের চারপাশের অংশে সবচেয়ে বেশি চর্বি জমে থাকে। এই অংশগুলিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি হওয়ায় নিয়মিত খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি জমা হতে পারে। পাশাপাশি মাংসের গায়ে থাকা সাদা চর্বির স্তরও শরীরের জন্য খুব একটা উপকারী নয়।

কোলেস্টেরল ও হার্টের রোগ থাকলে কী করবেন?

যাঁদের উচ্চ কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা পেটে অতিরিক্ত মেদ রয়েছে, তাঁদের চর্বিযুক্ত মাংস এড়িয়ে চলাই ভালো। পরিবর্তে খাসির পা, কাঁধ ও কোমরের তুলনামূলক চর্বিহীন অংশ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। রান্নার আগে দৃশ্যমান অতিরিক্ত চর্বি কেটে ফেললেও অনেকটা ফ্যাট কমানো সম্ভব।

অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস কেন ক্ষতিকর?

চর্বিযুক্ত মাংসে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে ধমনিতে চর্বি জমে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে জমে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার সম্ভাবনাও বাড়ায়।

হজমের সমস্যাও বাড়াতে পারে এই অভ্যাস

অতিরিক্ত তেল-মশলা ও চর্বিযুক্ত খাসির মাংস খেলে অনেকের গ্যাস, বদহজম, পেট ফাঁপা, অম্বল কিংবা পেট ভারী লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের হজমশক্তি দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ধরনের খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই নিরাপদ।

খাসির মাংস খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপায়

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংস ধোয়ার সময় এবং রান্নার আগে দৃশ্যমান সাদা চর্বি কেটে ফেলা উচিত। ডুবো তেলে ভাজার বদলে গ্রিল, সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করলে তা অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়। পাশাপাশি মাংসের সঙ্গে পর্যাপ্ত সালাদ, সবুজ শাকসবজি ও শস্যজাতীয় খাবার রাখলে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। একবারে দুই থেকে তিন টুকরোর বেশি না খাওয়াই ভালো এবং মাসে এক-দু'বারের বেশি খাওয়া উচিত নয়।

খাসির মাংস প্রোটিন ও পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও সব অংশ সমান স্বাস্থ্যকর নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত কয়েকটি অংশ নিয়মিত খেলে বাড়তে পারে এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরল, স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি। তাই মাংস কেনার সময় কোন অংশ এড়িয়ে চলবেন এবং কোন অংশ তুলনামূলকভাবে ভালো, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

Leave a comment