আপনার মোট নেটওয়ার্থ যদি ১ কোটি টাকা হয়, তাহলে সেই পুরো অর্থ সেভিংস অ্যাকাউন্টে রেখে দেওয়াই সবসময় উপযুক্ত কৌশল নয়। একদিকে যেমন জরুরি প্রয়োজনে সহজে ব্যবহারযোগ্য টাকা থাকা দরকার, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের জন্য অর্থের একটি অংশ বিনিয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধির সুযোগও রাখা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোর্টফোলিওতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের অংশ কমিয়ে তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি সাধারণ নিয়মও রয়েছে।
শুধু ব্যাঙ্কে ১ কোটি টাকা রাখলেই কি নিরাপদ?
অনেকের ধারণা, টাকা ব্যাঙ্কে রেখে দিলেই সেটি সবচেয়ে নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকবে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে সমস্ত অর্থ নগদ বা সেভিংস অ্যাকাউন্টে পড়ে থাকলে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে। অর্থাৎ, টাকার অঙ্ক একই থাকলেও ভবিষ্যতে সেই টাকায় আগের মতো পণ্য বা পরিষেবা কেনা নাও যেতে পারে।আবার উল্টো দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। সব টাকা বিনিয়োগ করে ফেললে হঠাৎ চিকিৎসা, বাড়ির প্রয়োজন কিংবা অন্য কোনও জরুরি খরচের সময় পর্যাপ্ত লিকুইড অর্থের অভাব হতে পারে। তাই সঞ্চয় এবং বিনিয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
ব্যাঙ্কে কত টাকা রাখবেন, তার কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই
১ কোটি টাকার নেটওয়ার্থ থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঠিক কত টাকা থাকা উচিত, তার কোনও একক সূত্র নেই। মাসিক খরচ, নিয়মিত আয়, চাকরি বা ব্যবসার স্থায়িত্ব, নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য এবং ভবিষ্যতের আর্থিক লক্ষ্য—সবকিছুর উপর এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে।তাই ১ কোটি টাকার পুরো অর্থকে শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক ব্যালান্স হিসেবে দেখার বদলে মোট সম্পদের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করে পরিকল্পনা করা যায়।
বয়স অনুযায়ী ইক্যুইটির হিসাব কী?
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত একটি সাধারণ ‘থাম্ব রুল’ হল—
ইক্যুইটি শতাংশ = ১০০ − বিনিয়োগকারীর বয়স
অর্থাৎ বয়স যত কম, এই সূত্র অনুযায়ী ইক্যুইটির সম্ভাব্য অংশ তত বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেট বা ফিক্সড ইনকাম ধরনের তুলনামূলক স্থিতিশীল সম্পদের অংশ বাড়ানোর কথা বলা হয়।তবে এটি কোনও বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। ব্যক্তির ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা, আয়, লক্ষ্য এবং বিনিয়োগের সময়সীমা অনুযায়ী প্রকৃত সম্পদ বণ্টন আলাদা হতে পারে।
বয়স ৪০ হলে ১ কোটি টাকার হিসাব
ধরা যাক, কোনও বিনিয়োগকারীর বয়স ৪০ বছর এবং মোট বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ ১ কোটি টাকা।
১০০ − ৪০ = ৬০ শতাংশ
এই থাম্ব রুল অনুযায়ী—
ইক্যুইটি: ৬০% = ৬০ লক্ষ টাকা
ডেট/ফিক্সড ইনকাম: ৪০% = ৪০ লক্ষ টাকা
মোট: ১ কোটি টাকা
অর্থাৎ বয়স ৪০ হলে উদাহরণ হিসেবে ৬০ লক্ষ টাকা ইক্যুইটি এবং ৪০ লক্ষ টাকা ডেট বা ফিক্সড ইনকাম অ্যাসেটে রাখার কাঠামো দেখানো যায়।
বয়স ৭০ হলে কী হবে?
এবার বয়স যদি ৭০ বছর হয়, তাহলে একই সূত্রে—
১০০ − ৭০ = ৩০ শতাংশ
সেক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে ১ কোটি টাকার বণ্টন হতে পারে—
ইক্যুইটি: ৩০% = ৩০ লক্ষ টাকা
ডেট/ফিক্সড ইনকাম: ৭০% = ৭০ লক্ষ টাকা
মোট: ১ কোটি টাকা
অর্থাৎ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই নিয়মে ইক্যুইটির অংশ কমছে এবং ডেট/ফিক্সড ইনকামের অংশ বাড়ছে।
১ কোটি টাকার সম্পদ কীভাবে ভাগ করবেন?
বয়সভিত্তিক এই সূত্রটি মূলত পোর্টফোলিওর ঝুঁকির মাত্রা বোঝার একটি সহজ কাঠামো। কম বয়সে দীর্ঘ সময় হাতে থাকায় বেশি ইক্যুইটি রাখার ধারণা দেখা যায়, আর অবসরের কাছাকাছি সময়ে তুলনামূলক স্থিতিশীল সম্পদের দিকে ঝোঁকার কথা বলা হয়।তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—নেটওয়ার্থ ১ কোটি টাকা মানেই বিনিয়োগযোগ্য নগদ ১ কোটি টাকা নয়। বাড়ি, জমি, সোনা, ব্যবসার সম্পদ বা অন্যান্য সম্পত্তিও নেটওয়ার্থের মধ্যে থাকতে পারে। তাই বাস্তবে অ্যাসেট অ্যালোকেশন করার আগে কোন সম্পদ ইতিমধ্যেই আপনার কাছে রয়েছে, সেটিও হিসাব করা প্রয়োজন।
১ কোটি টাকার নেটওয়ার্থ তৈরি হয়ে গেলেই আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যায় না। মূল্যবৃদ্ধির কারণে দীর্ঘমেয়াদে টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমতে পারে। তাই পুরো অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফেলে না রেখে বয়স, আয়, খরচ ও ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন সম্পদে ভাগ করে রাখার কথা ভাবা যায়। প্রচলিত একটি থাম্ব রুল অনুযায়ী, ইক্যুইটিতে বিনিয়োগের শতাংশ হিসাব করা হয় ১০০ − বয়স সূত্রে।













