দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ইউনিয়নের ডাকা ‘লং মার্চ’-কে ঘিরে ছাত্র ও দিল্লি পুলিশের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র ইউনিয়ন পদাধিকারীরাও গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন এবং বসন্ত কুঞ্জ নর্থ থানায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে বর্তমান জেএনইউএসইউ সভাপতি অদিতি মিশ্রা এবং প্রাক্তন সভাপতি নীতীশ কুমার রয়েছেন। এছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্ট গোপিকা বাবু এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি দানিশ আলিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগেই শিক্ষার্থীদের জানিয়েছিল যে ক্যাম্পাসের বাইরে বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং তাদের প্রতিবাদ ক্যাম্পাসের ভেতরেই সীমাবদ্ধ রাখতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশের তথ্যমতে, প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে জড়ো হন এবং দুপুর প্রায় ৩টা ২০ মিনিটে মেইন গেট দিয়ে বেরিয়ে শিক্ষা মন্ত্রকের দফতরের দিকে অগ্রসর হতে থাকেন। ব্যারিকেডে পৌঁছানোর পর ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।
পুলিশের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে লাঠি, জুতো ও ব্যানার নিক্ষেপ করে। হাতাহাতির সময় একাধিক পুলিশকর্মী আহত হন এবং কিছু কর্মকর্তাকে কামড় দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ২৫ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এসিপি বেদ প্রকাশ, এসিপি সংঘমিত্রা, এসএইচও অতুল ত্যাগী এবং এসএইচও অজয় যাদব অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

অন্যদিকে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ মিছিল আটকাতে পুলিশ অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করেছে এবং লাঠিচার্জ করেছে।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে কিছু শিক্ষার্থীকে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে, চড় মারতে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে লাঠি নিক্ষেপ করতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে প্রাক্তন ছাত্র নেতা নীতীশ কুমারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীরে উঠে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। আরেকটি ক্লিপে এক শিক্ষার্থীকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চড় মারতে দেখা যায়। তবে এসব ভিডিওর স্বাধীনভাবে সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলি ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে যাচাই করছে।
পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান, আঘাত করা এবং অপরাধমূলক বল প্রয়োগের অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এফআইআর দায়েরের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের আদালতে পেশ করা হবে।
সংঘর্ষের পর জেএনইউ ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।












