সন্ধে নামলেই ভাজাভুজির টান—চাউমিন, রোল, মোমো না খেলে যেন দিনই শেষ হয় না। কিন্তু আজকের বাজারে দোকানে খেতে গেলে পকেট ফাঁকা হওয়াই স্বাভাবিক। ঠিক সেই জায়গাতেই ব্যতিক্রম হয়ে উঠেছে পুরুলিয়ার ঝালদার কোটশিলা টালি সেন্টারের পাশের একটি ছোট ফুডস্টল, যেখানে মাত্র ৫ টাকায় মিলছে জিভে জল আনা চাউমিন।
কোথায় মিলছে ৫ টাকার চাউমিন?
পুরুলিয়া জেলার ঝালদা ব্লকের কোটশিলা টালি সেন্টার সংলগ্ন এলাকায় এই ব্যতিক্রমী চাউমিনের দোকানটি অবস্থিত। স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি এখন পরিচিত “পাঁচ টাকার চাউমিনের দোকান” নামেই।
কারা চালান এই দোকান?
এই অভিনব উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন দুই ভাই—গুল্লু কুমার ও গুড্ডু কুমার।
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে তাঁরা এই ফুডস্টল চালাচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে দাম বাড়লেও, সাধারণ মানুষের কথা ভেবেই তাঁরা চাউমিনের দাম বাড়াননি।
কেন এত কম দামে চাউমিন?
দোকানদার গুল্লু কুমার জানান,
“অনেক সময় টাকার অভাবে মানুষ রোল বা চাউমিনের মতো খাবার খেতে পারে না। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া বাচ্চা বা শ্রমজীবী মানুষ। তাঁদের কথা ভেবেই আমরা ৫ টাকাতেই চাউমিন দিচ্ছি।”
এই মানবিক ভাবনাই আজ তাঁদের দোকানকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
প্রতিদিন কত বিক্রি হয়?
দু’ভাইয়ের দাবি অনুযায়ী,
প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ প্লেট চাউমিন বিক্রি হয়
সন্ধে হলেই দোকানের সামনে ভিড় জমে
শিশু থেকে শুরু করে বড়রাও নিয়মিত ক্রেতা
কী বলছেন খুদে ক্রেতারা?
চাউমিন কিনতে আসা ছোট্ট ক্রেতা লক্ষ্মী কুমার ও কিরণ কুমার জানায়,
“আর কোথাও এত কম দামে চাউমিন পাওয়া যায় না। তাই আমরা সব সময় এখান থেকেই কিনি।”
খাবারের স্বাদ আর দামের জেরেই এই দোকানের প্রতি আস্থা বেড়েছে স্থানীয়দের।
দাম বাড়ছে সব কিছুরই। কিন্তু সেই বাজারেই পুরুলিয়ার ঝালদায় মাত্র ৫ টাকায় এক প্লেট গরম চাউমিন খাইয়ে মানুষের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন দুই ভাই। ১৮ বছরের পুরনো এই ছোট ফুডস্টল আজ হাইপারলোকাল এলাকায় রীতিমতো চর্চার কেন্দ্র।













