সকালে চোখ খুলেই অনেকেই ঢকঢক করে জল খান, আবার কেউ কেউ ব্রাশ-স্নান সেরে বা প্রাতরাশের পর জল পান করেন। কিন্তু কোন অভ্যাসটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী? বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের প্রথম জল শরীরের ভিতরের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে তোলে, যার প্রভাব পড়ে সারাদিনের শক্তি, হজম ও মনোযোগে।
রাতে কেন শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে?
সারা রাত ঘুমের সময় শরীর কোনও খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করলেও শ্বাসপ্রশ্বাস, ঘাম, রক্তসঞ্চালন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মতো প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এর ফলে ধীরে ধীরে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হয়। সকালে উঠে জল না খেলে ক্লান্তি, মাথা ভার লাগা বা ঝিমুনি দেখা দিতে পারে।
সকালে উঠেই জল খাওয়ার উপকারিতা কী?
কলকাতার পুষ্টিবিদ ডঃ লীলা রায় জানাচ্ছেন, ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমের পর শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠেই ১–২ গ্লাস জল খেলে শরীরের তরলের ভারসাম্য দ্রুত ঠিক হয়। এতে ব্রেন ফগ কমে, মনোযোগ বাড়ে এবং ঝিমুনি অনেকটাই কেটে যায়।
হজম ও বিপাকে কী প্রভাব পড়ে?
সকালের জল অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া শুরু করতে সাহায্য করে। ফলে হজম ভালো হয় ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। অনেক ক্ষেত্রে জল খাওয়ার পরবর্তী এক ঘণ্টায় বিপাকীয় হার প্রায় ২৫–৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক।
কিডনি ও লিভারের জন্য কতটা জরুরি?
রাতে শরীরের ভিতরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ বের করার জন্য জল অত্যন্ত জরুরি। সকালে পর্যাপ্ত জল পান করলে কিডনি ও লিভারের উপর চাপ কমে এবং শরীর সহজেই টক্সিন বের করতে পারে।
প্রাতরাশের আগে জল খাওয়া কি ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতরাশের আগে জল খেলে অন্ত্রের আস্তরণ খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়। এর ফলে খাবার থেকে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতা বাড়ে এবং অপ্রয়োজনীয় খিদে কিছুটা কমে।
কতটা জল খাবেন, আর কেমন জল সবচেয়ে ভালো?
ঘুম থেকে উঠে ১ থেকে ২ গ্লাস জলই যথেষ্ট। খুব ঠান্ডা বা খুব গরম জল নয়—স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য উষ্ণ জল শরীর সবচেয়ে সহজে গ্রহণ করতে পারে।
ঘুম থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে জল খাওয়া ভালো, নাকি কিছুক্ষণ পরে? এই সাধারণ অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সারাদিনের সুস্থতার চাবিকাঠি। জল খাওয়ার সঠিক সময় ও পরিমাণ নিয়ে কী বলছেন পুষ্টিবিদরা, জেনে নিন বিস্তারিত।








