রাজ্যজুড়ে এসআইআর শুনানি নিয়ে যখন প্রবীণ ও অসুস্থ নাগরিকদের চরম দুর্ভোগের অভিযোগ উঠছিল, ঠিক তখনই সিদ্ধান্ত বদল করল নির্বাচন কমিশন। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ভোটারদের আর শুনানি কেন্দ্রে যেতে হবে না। একই ছাড় মিলবে গুরুতর অসুস্থ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদেরও। এই সিদ্ধান্তকে তৃণমূলের লাগাতার চাপের ফল বলেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হল
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে যাঁরা, কিংবা যাঁরা শারীরিকভাবে অসুস্থ বা বিশেষভাবে সক্ষম—তাঁদের ক্ষেত্রে বাড়িতে গিয়েই শুনানির ব্যবস্থা করা হবে। ইতিমধ্যে যাঁদের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইআরও, এইআর বা বিএলও যোগাযোগ করে বিষয়টি জানাবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআইআর শুনানি ঘিরে কেন বিতর্ক
গত শনিবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি। অভিযোগ, প্রবল শীতের মধ্যেও বহু প্রবীণ নাগরিককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়েছে। কলকাতার চেতলা গার্লস স্কুলে এক ৯০ বছরের বৃদ্ধকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়ায়। এমনকি পশ্চিম মেদিনীপুরে হাসপাতালে ভর্তির দিন এক অন্তঃসত্ত্বাকেও শুনানির লাইনে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
তৃণমূলের অভিযোগ ও চাপ
এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তোলে, এসআইআর শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আগেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের উপর ক্রমাগত চাপ বাড়াতে সোমবার মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠায় শাসকদল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাশাপাশি তিনি আরও আবেদন জানান, ৬০ বছরের বেশি বয়সী যাঁরা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নেওয়া হয়।
এসআইআর শুনানি নিয়ে প্রবীণ ও অসুস্থ ভোটারদের ভোগান্তির অভিযোগে অবশেষে নতি স্বীকার করল নির্বাচন কমিশন। ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সের ভোটারদের আর শুনানি কেন্দ্রে যেতে হবে না—বাড়িতেই হবে শুনানি। কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।











