বিনোদন জগতে সাফল্যের পিছনে থাকে অনেক অজানা লড়াই। জনপ্রিয় অভিনেতা আসিফ খানের গল্পও তেমনই। একটা সময় মুম্বইয়ে টিকে থাকার জন্য হোটেলে ওয়েটারের কাজ করতে হয়েছিল তাঁকে। দিনে মাত্র ২২৫ টাকা আয় করে চলতে হয়েছে, থেকেছেন অল্প জায়গায় আরও কয়েকজনের সঙ্গে। এমনকী সইফ আলি খান ও কারিনা কাপুরের বিয়ের রিসেপশনে তারকা অতিথিদের কাছাকাছি থেকেও অতিথি হিসেবে নয়, কর্মী হিসেবেই উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেই সংগ্রামের দিন পেরিয়ে আজ তাঁর পরিচয়—‘পঞ্চায়েত’-এর গণেশ ওরফে ‘দামাদজি’ এবং ‘বিগ বস ২০’-এর নতুন প্রতিযোগী।
ছোট থেকেই লড়াই ছিল জীবনের সঙ্গী
রাজস্থানের একটি ছোট গ্রাম থেকে উঠে এসেছেন আসিফ খান। ২০০৮ সালে বাবাকে হারানোর পর পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের প্রয়োজন মেটাতে নানা ধরনের ছোটখাটো কাজ শুরু করেন তিনি।তবে মনে ছিল অভিনয়ের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই একসময় মুম্বই পাড়ি দেন আসিফ। কিন্তু স্বপ্নের শহরে পৌঁছনোর পরই যে সুযোগের দরজা খুলে গিয়েছিল, তা নয়। থাকার জায়গা থেকে খাবার—সবকিছু নিয়েই তাঁকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল।
দিনে ২২৫ টাকা, সঙ্গে একবেলা খাবার
মুম্বইয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য একটি হোটেলে ওয়েটারের কাজ শুরু করেন আসিফ। সেখানে তাঁর দৈনিক আয় ছিল মাত্র ২২৫ টাকা। পারিশ্রমিকের পাশাপাশি একবেলা খাবারও পেতেন তিনি।থাকার পরিস্থিতিও ছিল বেশ কঠিন। একটি ছোট ঘরে আরও ৬-৭ জনের সঙ্গে থাকতে হত তাঁকে। কিন্তু অভিনেতা হওয়ার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি তিনি।
সইফ-করিনার রিসেপশনে কাজ করার সুযোগ
আসিফ যে হোটেলে কাজ করতেন, সেখানেই আয়োজন করা হয়েছিল সইফ আলি খান ও কারিনা কাপুরের বিয়ের রিসেপশন। অনুষ্ঠান ঘিরে উপস্থিত হয়েছিলেন বলিউডের একাধিক বড় তারকা।রান্নাঘরে কাজ করার সময় আসিফ জানতে পারেন, অনুষ্ঠানে অমিতাভ বচ্চন ও দীপিকা পাড়ুকোনের মতো তারকারাও এসেছেন। প্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের একবার কাছ থেকে দেখার প্রবল ইচ্ছা জাগে তাঁর।
তারকাদের দেখার ইচ্ছেটাও পূরণ হয়নি
আসিফ ম্যানেজারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, অন্তত একদিনের জন্য যেন তাঁকে বাইরে ওয়েটারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল, অনুষ্ঠানে আসা তারকাদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাওয়া।কিন্তু তাঁর সেই অনুরোধ মেনে নেওয়া হয়নি। প্রত্যাখ্যাত হয়ে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন আসিফ। এতটাই হতাশ হয়েছিলেন যে, বাথরুমে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ কেঁদেছিলেন বলে জানা যায়।তখন হয়তো তিনি ভাবতেও পারেননি, একদিন নিজেই সেই তারকাদের মতো বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ হয়ে উঠবেন।
ওয়েটারের কাজ ছেড়ে শুরু থিয়েটার
ব্যর্থতায় থেমে থাকেননি আসিফ। হোটেলের চাকরি ছেড়ে অভিনয়ের পথে আরও জোর দিয়ে এগিয়ে যান। থিয়েটারে কাজ শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে ছোট ছোট চরিত্রের মাধ্যমে পর্দায় নিজের জায়গা তৈরি করতে থাকেন।ওটিটি-তেও কাজের সুযোগ আসে। ‘মির্জাপুর’-এ বাবরের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজরে পড়েন তিনি।
‘পঞ্চায়েত’-এর ‘দামাদজি’ বদলে দেয় ভাগ্য
তবে আসিফ খানের কেরিয়ারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসে ‘পঞ্চায়েত’-এ অভিনয়ের পর। ফুলেড়া গ্রামের জামাই গণেশের চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের অত্যন্ত পছন্দ হয়।পর্দায় তাঁর মুখে বলা ‘গজব বেজ্জাতি হ্যায়’ সংলাপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ‘দামাদজি’ নামেই একসময় তাঁকে চিনতে শুরু করেন অসংখ্য দর্শক।
এবার ‘বিগ বস ২০’-এর ঘরে আসিফ
ওটিটিতে নিজের পরিচয় তৈরি করার পর এবার টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ২০’-এ প্রতিযোগী হিসেবে প্রবেশ করেছেন আসিফ খান।মঞ্চে প্রবেশের সময় তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের কথাও সামনে আসে। ওয়েটার হিসেবে কাজ করা সেই যুবক আজ নিজেই বিনোদন দুনিয়ার পরিচিত মুখ—এই সফর নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য।
আজকের পরিচিত অভিনেতা আসিফ খানের জীবন একসময় ছিল চরম সংগ্রামে ভরা। মুম্বইয়ে অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে এসে ওয়েস্টিন হোটেলে ওয়েটারের কাজ করতেন তিনি। দিনে পারিশ্রমিক পেতেন মাত্র ২২৫ টাকা, সঙ্গে মিলত একবেলা খাবার। সেই হোটেলেই সইফ আলি খান ও কারিনা কাপুরের বিয়ের রিসেপশনে কাজ করার সুযোগ এসেছিল। আজ সেই আসিফই ‘পঞ্চায়েত’-এর জনপ্রিয় ‘দামাদজি’ এবং ‘বিগ বস ২০’-এর প্রতিযোগী।










