আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থান নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। সেই তালিকায় অন্যতম নাম Abdur Rahim Boxi। হলফনামার হিসাব বলছে, গত পাঁচ বছরে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ও আগ্রহ—দু’টিই বাড়িয়ে দিয়েছে।
![]()
রাজনীতির ময়দান থেকে সম্পদের উত্থান
বামফ্রন্টের আরএসপি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন বক্সি। ২০১১ সালে প্রথমবার বিধায়ক হন এবং পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে All India Trinamool Congress-এ যোগ দেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়ে আবারও মালতিপুরের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। দলীয় সংগঠনে গুরুত্ব বাড়তে বাড়তে জেলা সভাপতির দায়িত্বও পান।
হলফনামায় কোটি টাকার হিসাব
২০২৬ সালের হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তি প্রায় ৫ কোটি ৮২ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি প্রায় ৪ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা এবং অস্থাবর সম্পত্তি ৮৪ লক্ষ টাকারও বেশি। পাশাপাশি প্রায় ১০ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকার ঋণের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
![]()
পাঁচ বছরে কতটা বৃদ্ধি?
২০২১ সালে তাঁর মোট সম্পত্তি ছিল প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি টাকার বৃদ্ধি হয়েছে। বিশেষ করে অস্থাবর সম্পত্তিতে বড়সড় বৃদ্ধি নজরে পড়ছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পেশা, আয়ের উৎস ও পারিবারিক তথ্য
৬২ বছর বয়সি বক্সি নিজেকে সমাজকর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে বিধায়ক সম্মানী, স্ত্রীর আইসিডিএস কর্মীর চাকরি, পাশাপাশি ব্যবসা ও কৃষিকাজ। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক।
![]()
বিচারাধীন মামলা ঘিরে বিতর্ক
হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে দুটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। একটি মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১, ৩২৬ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি, তবুও এই তথ্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে।
ভোটের আগে বাড়ছে জল্পনা
মালতিপুর কেন্দ্রে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী Mausam Noor। সম্পত্তি বৃদ্ধি ও মামলা—এই দুই বিষয়কে ঘিরে ইতিমধ্যেই ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
![]()
২০২৬-এর হলফনামা অনুযায়ী মালতিপুরের তৃণমূল প্রার্থী আব্দুর রহিম বক্সির মোট সম্পত্তি প্রায় ৫.৮২ কোটি টাকা। ২০২১-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, সঙ্গে রয়েছে ঋণ ও বিচারাধীন মামলা—সব মিলিয়ে ভোটের আগে জমে উঠেছে রাজনৈতিক চর্চা।











