পড়শি বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার হিংসা ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল। এই আবহে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন—নিজেকে ‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ বলা প্রধানমন্ত্রী এমন পরিস্থিতিতে কেন সম্পূর্ণ নীরব?
‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’ কটাক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, যিনি নিজেকে হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে দাবি করেন, তাঁর ভূমিকা তখনই বিচার করা উচিত, যখন পাকিস্তান বা বাংলাদেশে হিন্দুরা প্রাণ হারাচ্ছেন। অথচ এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখে একটি কথাও শোনা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ
অভিষেকের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কার্যকর কোনও কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ করছে না। তাঁর প্রশ্ন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার পরেও কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে এবং কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে না।
ভোটের স্বার্থে বাংলাদেশ ইস্যু? বিজেপিকে তোপ
তৃণমূল নেতার দাবি, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক নির্বাচনমুখী রাজ্যে বাংলাদেশের ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। তাঁর মতে, মানবিক সংকট নয়, নির্বাচনী লাভই গেরুয়া শিবিরের মূল লক্ষ্য।
শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন
বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার ঘটনায় বিজেপির আন্দোলন প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, যাঁরা আগে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারের প্রশংসা করেছিলেন, তাঁরাই এখন প্রতিবাদ করছেন। তাঁর কটাক্ষ, “সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন কারা? বিজেপির নেতারাই। আজ সেই সরকারকে নিয়েই নাটক চলছে।”
বিজেপির পাল্টা দাবি
বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য অভিষেকের অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, বাংলাদেশ নিয়ে ভারত সরকার কূটনৈতিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে। সব বিষয় প্রকাশ্যে বলা যায় না। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কেন্দ্রের অবস্থান ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ইস্যুতে তৃণমূলের অবস্থান
তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্র সরকার যে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ নেবে, তা দল সমর্থন করবে। তবে হিংসার ঘটনায় রাজনৈতিক লাভ তোলার প্রবণতার তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
‘শিলিগুড়ি করিডর’ প্রসঙ্গ টেনে অমিত শাহকে প্রশ্ন
বাংলাদেশের কিছু সংগঠনের তরফে হুমকির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, এই ধরনের বক্তব্য কীভাবে সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জবাব চাওয়া উচিত। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি মানবিক সংকটকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনমুখী রাজ্যগুলিতে ভোটের ফায়দা তুলতে চাইছে।











