বড়দিনের দিন দর্শকসংখ্যা কম থাকায় তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। তবে সেই সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বছরের শেষ রবিবারে ফের চেনা ছন্দে ফিরল আলিপুর চিড়িয়াখানা। বন্যপ্রাণপ্রেমী মানুষের ঢলে কার্যত গিজগিজ করল চিড়িয়াখানা চত্বর।
বছরের শেষ রবিবারে আলিপুরে রেকর্ড ভিড়
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বছরের শেষ রবিবারে আলিপুর চিড়িয়াখানায় মোট ৭১ হাজার ১০০ জন দর্শক প্রবেশ করেছেন। শীতের মরশুম, ছুটির আমেজ ও উৎসবের আবহ—সব মিলিয়েই এই বিপুল জনসমাগম বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
ভিড়ের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে কে?
শুধু চিড়িয়াখানাই নয়, কলকাতার অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও ছিল মানুষের ঢল। ভিড়ের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইকো পার্ক, যেখানে ওইদিন মোট ৪৯ হাজার ২৯৪ জন মানুষ ভিড় জমান। তবে সংখ্যার বিচারে অনেকটাই এগিয়ে আলিপুর চিড়িয়াখানা।
বড়দিনে কেন কমেছিল দর্শক? ব্যাখ্যা কর্তৃপক্ষের
চলতি বছরে বড়দিনে আলিপুর চিড়িয়াখানায় দর্শকসংখ্যা ছিল ৪৪ হাজারের সামান্য বেশি। সাধারণত বড়দিনে যেখানে ৭৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ দর্শক ভিড় জমান, সেখানে এই সংখ্যা অনেকটাই কম। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, এর মূল কারণ গুগল সার্চ বিভ্রাট।
গুগলে ‘বন্ধ’ দেখানোয় বিভ্রান্তি
চলতি বছরে বড়দিন পড়েছিল বৃহস্পতিবারে। সাধারণত বৃহস্পতিবার আলিপুর চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকে। যদিও উৎসবের মরশুমে চিড়িয়াখানা প্রতিদিনই খোলা ছিল। কিন্তু গুগলে বৃহস্পতিবার ‘চিড়িয়াখানা বন্ধ’ দেখানোয় বহু পর্যটক ভুল তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পনা বাতিল করেন বলে মনে করা হচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়া নয়, অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ
এই অভিজ্ঞতার পর সাধারণ মানুষের কাছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের আর্জি—
যেকোনও তথ্য জানার জন্য আলিপুর চিড়িয়াখানার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে নজর রাখুন। তাতেই পরিষেবা সংক্রান্ত সমস্ত বিভ্রান্তি দূর হবে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
নতুন অতিথিতে সমৃদ্ধ চিড়িয়াখানা
আলিপুর চিড়িয়াখানার আকর্ষণ যে এখনও অটুট, তা দর্শকসংখ্যা থেকেই স্পষ্ট। বাঘ, সিংহ, জলহস্তীর পাশাপাশি চিড়িয়াখানায় যুক্ত হয়েছে—
চিতা-বিড়াল
মাউস ডিয়ার ও সোয়াম্প ডিয়ার
বিশাখাপত্তনম থেকে আনা সাদা বাঘিনী
মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক থেকে আনা সবুজ অ্যানাকোন্ডা
পাখিপ্রেমীদের জন্য বিশেষ বন্দোবস্ত
পাখি দেখার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ খাঁচা, যেখানে পাখিরা পাবে মুক্ত পরিবেশের স্বাদ। দর্শকরা আবার বিশেষভাবে তৈরি করিডরের ভিতর থেকে উপভোগ করতে পারবেন পাখিদের কিচিরমিচির—যা চিড়িয়াখানার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
১ জানুয়ারি নিয়েও উদ্বেগ কর্তৃপক্ষের
আগামী ১ জানুয়ারি আবারও বৃহস্পতিবার। ফলে ফের গুগল বিভ্রাট দর্শকসংখ্যায় প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়েই এখন চিন্তিত কর্তৃপক্ষ। বছরের প্রথম দিনে কত মানুষ চিড়িয়াখানামুখী হন, সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।
বড়দিনে প্রত্যাশিত ভিড় না হলেও বছরের শেষ রবিবারে কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হল আলিপুর চিড়িয়াখানা। একদিনে ৭১ হাজারের বেশি মানুষ পা রাখলেন চিড়িয়াখানায়। ভিড়ের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ইকো পার্ক।













