দুর্গাপুজো আর শুধু পাঁচ দিনের উৎসব নয়—এবার তা থাকবে বছরজুড়ে। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবকে ঘিরে এক নতুন সাংস্কৃতিক অধ্যায়ের সূচনা করল রাজ্য সরকার। সোমবার বিকেলে নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানালেন, এটি কোনও রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে সম্মান জানানোই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
নিউটাউনে দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস, উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা
সোমবার বিকেলে নিউটাউনের ইকো পার্ক সংলগ্ন এলাকায় দুর্গা অঙ্গনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। পূর্ব ঘোষণামতো এই অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী দুর্গা অঙ্গনের রূপরেখা ও ভাবনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব
দুর্গা অঙ্গন ঘিরে বিরোধীদের ‘হিন্দুত্বের রাজনীতি’ অভিযোগের সরাসরি জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
তিনি স্পষ্ট করেন, এই প্রকল্প কোনও ভোট রাজনীতির অঙ্গ নয়।
ইউনেস্কোর স্বীকৃতিকে সম্মান জানাতেই দুর্গা অঙ্গন
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইউনেস্কো দুর্গাপুজোকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই আন্তর্জাতিক সম্মানকে স্মরণীয় করে রাখতেই দুর্গা অঙ্গন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত। এখানেই থাকবে মা দুর্গার সারাবছরের দর্শন ও নিত্যপুজোর ব্যবস্থা।
কেমন হবে দুর্গা অঙ্গন? জানুন একনজরে
দুর্গা অঙ্গন তৈরি হচ্ছে নিউটাউনে ইকো পার্কের কাছে প্রায় ১৭.২৮ একর জমিতে। প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য দিকগুলি হল—
চারপাশে ২০ ফুট চওড়া রাস্তা
প্রতিদিন ১ লক্ষ ভক্তের প্রবেশের ব্যবস্থা
একসঙ্গে হাজার ভক্তের বসার জায়গা
১০৮টি দেবদেবীর মূর্তি
৬৪টি সিংহ মূর্তি
লক্ষ্মী ও সরস্বতীর জন্য আলাদা মণ্ডপ
আলাদা প্রসাদ তৈরির ঘর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মঞ্চ
৩৬৫ দিন খোলা থাকবে, মিলবে কর্মসংস্থানের সুযোগ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দুর্গা অঙ্গন সারা বছর খোলা থাকবে এবং প্রতিদিন পুজো দেওয়া যাবে। মন্দির চত্বরে দোকান তৈরি হবে, যার মাধ্যমে স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও জানান তিনি।
২৬১ কোটির প্রকল্প, ২০২৭-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য
এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে রাজ্য সরকারের অবদান উল্লেখযোগ্য। গোটা নির্মাণকাজ হবে হিডকো-র তত্ত্বাবধানে। মুখ্যমন্ত্রীর আশা, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই দুর্গা অঙ্গন সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।
সহজ যোগাযোগই নিউটাউনকে বেছে নেওয়ার কারণ
প্রথমে জমির পরিমাণ ছিল ১২.৬ একর। পরে সেটি বাড়িয়ে প্রায় ১৮ একর করা হয়। মমতার কথায়,
“বিমানবন্দর থেকে সহজে আসা-যাওয়ার সুবিধা রয়েছে বলেই এই জায়গা বেছে নেওয়া হয়েছে।”
সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধন হিসেবেই দুর্গা অঙ্গন গড়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিকে সম্মান জানিয়ে নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৭ একরের বেশি জমিতে গড়ে উঠবে এই আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে ৩৬৫ দিনই হবে দেবী দুর্গার নিত্যপুজো।












