উন্নাও গণধর্ষণ কাণ্ড নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল দেশজুড়ে। নির্যাতিতা ও তাঁর মায়ের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি এবং সেই ঘটনার প্রসঙ্গে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এক মন্ত্রীর ‘রসিকতা’ ঘিরে উঠেছে তীব্র বিতর্ক। এই আবহে সমাজমাধ্যম X-এ বিজেপিকে নিশানা করে প্রশ্ন তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—“এটাই কি বেটি বাঁচাওয়ের বাস্তবতা?”
X-এ সরাসরি বিজেপিকে তোপ অভিষেকের
X হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লেখেন, ধর্ষণে দোষী সাব্যস্ত বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে জামিন দেওয়া হয়েছে, আর বিজেপিশাসিত রাজ্যের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর নির্যাতিতাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করছেন। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতৃত্বের নীরবতাকেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বলে তুলে ধরেন অভিষেক।
‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগানকে কাঠগড়ায়
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, যখন একজন দোষী ধর্ষক প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং সরকারের মন্ত্রী সেই ঘটনায় রসিকতা করেন, তখন কন্যা ও মহিলাদের নিরাপত্তার কথা বলা নিছক ভণ্ডামি। তাঁর মতে, এই ঘটনাই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ‘বেটি বাঁচাও’ প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।
উন্নাও কাণ্ডের ভয়াবহ পটভূমি
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৪ জুন উন্নাওয়ে গণধর্ষণের শিকার হন ওই তরুণী। মূল অভিযুক্ত ছিলেন তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গার। অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লেখেন নির্যাতিতা। ২০১৮ সালে যোগীর বাসভবনের সামনে প্রতিবাদে বসে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। সেই ঘটনার পরেই পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় তাঁর বাবার—যা দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
সাজা, জামিন ও নতুন বিতর্ক
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে আইপিসির ৩৭৬ ধারা ও পকসো আইনে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্ট তাঁকে জামিন দেওয়ায় ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিচারব্যবস্থা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে।
ইন্ডিয়া গেট বিক্ষোভ ও মন্ত্রীর হাসি
দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গিয়ে সিআরপিএফের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে ‘আহত’ হন নির্যাতিতা ও তাঁর মা। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভরের হাস্যরসাত্মক মন্তব্যে সমাজমাধ্যমে শুরু হয় নিন্দার ঝড়—যা আরও উসকে দেয় রাজনৈতিক বিতর্ক।
উন্নাও গণধর্ষণ কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিং সেঙ্গারের জামিন, নির্যাতিতা ও তাঁর মায়ের হেনস্তা এবং সেই ঘটনায় যোগীর মন্ত্রীর হাস্যরস—সব মিলিয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।












