খুশির উৎসব বড়দিনেই চরম বিপর্যয় শহর কলকাতায়। গার্ডেনরিচের পাহাড়পুরে ঝুপড়ি বসতিতে আচমকা আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে গেল অন্তত ৫০টি বাড়ি। বিকেলের মধ্যেই শুরু হওয়া আগুনের গ্রাসে একের পর এক ঝুপড়ি ভস্মীভূত হয়, আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন বাসিন্দারা।
বিকেলে আচমকা আগুন, ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ পাহাড়পুর এলাকার একটি আবর্জনা স্তূপে প্রথমে আগুন লাগে। সেখানে থাকা দাহ্য পদার্থের কারণে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ঝুপড়িগুলিতে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা ঢেকে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়, কানে আসে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ।
দমকলের ৬টি ইঞ্জিনে নিয়ন্ত্রণে আগুন
আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে দমকলের ৫টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে আরও একটি ইঞ্জিন পাঠানো হয়। ঘিঞ্জি এলাকা, সরু রাস্তা এবং ঝুপড়ির ঘনবসতির কারণে আগুন নেভাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় দমকল কর্মীদের। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কিছু জায়গায় এখনও পকেট ফায়ার রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের আশঙ্কা
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি দমকল দফতর। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগুন লাগার পর একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে আগুন আরও ভয়াবহ আকার নেয়। এই বিস্ফোরণই এত বড় ক্ষতির অন্যতম কারণ বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
বড়দিনেই সর্বস্ব খোয়াল পরিবারগুলি
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ঘরবাড়ির সঙ্গে সঙ্গে আসবাব, কাপড়চোপড় ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। বড়দিনের সন্ধ্যাতেই মাথার উপর ছাদ হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছেন বহু পরিবার। কারও কারও চোখে জল—বছরের শেষে এমন বিপর্যয়ে কীভাবে দিন চলবে, তা নিয়েই দুশ্চিন্তা তাঁদের।
প্রশাসনের সাহায্যের অপেক্ষায় ক্ষতিগ্রস্তরা
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা না এলে নতুন করে জীবন গুছিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অস্থায়ী আশ্রয়, খাবার ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে গোটা ঘটনায় কোনও ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে।
বড়দিনের সন্ধ্যায় কলকাতার গার্ডেনরিচের পাহাড়পুর এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ঘিঞ্জি ঝুপড়ি বসতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে। দমকলের ৬টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সর্বস্ব হারিয়েছেন অন্তত ৫০টি পরিবার।











