ডিজিটাল যুগে অতিরিক্ত মুনাফার হাতছানি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তারই জলজ্যান্ত উদাহরণ সামনে এল কলকাতায়। অনলাইন বিনিয়োগের ফাঁদে পা দিয়ে ২৬ লক্ষ টাকা ঢালার পর আরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগের পথে হাঁটছিলেন এক গ্রাহক। ঠিক সেই সময় লেনদেনে অস্বাভাবিকতা নজরে আসায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সাইবার ক্রাইম শাখা, রক্ষা পেল আরও বড় আর্থিক ক্ষতি।
হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেই শুরু প্রতারণার ফাঁদ
সাইবার ক্রাইম সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি—যিনি একটি ব্যাঙ্কের প্রাক্তন সিনিয়র ম্যানেজার—সম্প্রতি একটি ‘ট্রেন্ডিং ইনভেস্টমেন্ট’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যোগ দেন। সেখানে তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে তাঁকে বোঝানো হয়, নির্দিষ্ট স্কিমে বিনিয়োগ করলে স্বল্প সময়ে বিপুল মুনাফা পাওয়া যাবে।
২৬ লক্ষ বিনিয়োগের পরও থামেননি গ্রাহক
প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় ধাপে ধাপে মোট ২৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। আশ্চর্যের বিষয়, এত বড় অঙ্ক বিনিয়োগের পরও আরও লাভের আশায় তিনি অতিরিক্ত টাকা ঢালার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
লেনদেনে সন্দেহ, তৎপর সাইবার ক্রাইম ও ব্যাঙ্ক
গ্রাহকের ব্যাঙ্ক লেনদেনে অস্বাভাবিকতা নজরে আসে ব্যাঙ্কের নোডাল অফিসার ও ল’ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির। সঙ্গে সঙ্গেই বিষয়টি জানানো হয় পশ্চিমবঙ্গ সাইবার ক্রাইম শাখাকে। দ্রুত গ্রাহককে নোটিস পাঠিয়ে সতর্ক করা হয়।
আরও ১৬.৫৬ লক্ষ টাকার ক্ষতি থেকে রক্ষা
সাইবার ক্রাইম শাখার সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে সঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায় আরও প্রায় ১৬.৫৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকেন। ফলে একটি বড় আর্থিক প্রতারণা থেকে রক্ষা পান তিনি। বর্তমানে ২৬ লক্ষ টাকা কোথায় এবং কোন অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
সোশাল মিডিয়ার বিনিয়োগ বিজ্ঞাপনে সতর্কতার বার্তা
সম্প্রতি সাইবার ক্রাইম শাখা ও বিভিন্ন ব্যাঙ্কের নোডাল অফিসারদের মধ্যে সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশাল মিডিয়ায় প্রচারিত বিনিয়োগ প্রকল্প থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকতে সচেতন করা হবে।
হোয়াটসঅ্যাপ ট্রেন্ডিং গ্রুপে বিনিয়োগের প্রলোভনে পড়ে ইতিমধ্যেই ২৬ লক্ষ টাকা খুইয়েছিলেন এক গ্রাহক। আরও প্রায় ১৬.৫৬ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের আগেই সতর্ক করে তাঁকে বড় জালিয়াতির হাত থেকে বাঁচাল পশ্চিমবঙ্গ সাইবার ক্রাইম শাখা ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।












