রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। এতদিন ধরে পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে বঞ্চিত ডিরেক্টরেট কর্মীদের জন্য এবার নতুন দিগন্ত খুলছে। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন দপ্তরের ডিরেক্টরেট কর্মীদের নিয়ে গঠন করা হবে ‘কমন ক্যাডার’, যার ফলে সচিবালয় কর্মীদের মতোই সমান সুযোগ-সুবিধা পেতে চলেছেন তাঁরা।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিরেক্টরেট কর্মীদের কমন ক্যাডার গঠনের প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ডিরেক্টরেটের কর্মীদের কর্মজীবনে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
এতদিনের নিয়মে ছিল বড় বাধা
এর আগে কোনও সরকারি দপ্তরের ডিরেক্টরেটের অধীনে নিযুক্ত কর্মীরা সারা কর্মজীবন সেই ডিরেক্টরেটেই আবদ্ধ থাকতেন। অন্য দপ্তরে বদলির কোনও সুযোগ ছিল না। বিশেষ করে ছোট ডিরেক্টরেটগুলিতে পদোন্নতির শূন্যপদ না থাকায় বহু কর্মী বছরের পর বছর একই পদে আটকে থাকতেন।
নতুন নিয়মে বাড়ছে পদোন্নতির সম্ভাবনা
নতুন ব্যবস্থায় কোনও কর্মীর পদোন্নতির সময় নিজের ডিরেক্টরেটে পদ খালি না থাকলে, তিনি অন্য দপ্তরে পদোন্নতি নিয়ে যোগ দিতে পারবেন। এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করবে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর। ফলে দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মীদের কাজে লাগানো আরও সহজ হবে।
হাজার হাজার কর্মীর উপকারের আশা
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের অধীনে কর্মরত হাজার হাজার ডিরেক্টরেট কর্মী উপকৃত হবেন বলে প্রশাসনের ধারণা। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে স্বস্তির বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
কর্মচারী ফেডারেশনের স্বাগত বার্তা
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনের রাজ্য আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক জানিয়েছেন, ফেডারেশনের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলেই ডিরেক্টরেট কমন ক্যাডার সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেয়েছে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মচারী দরদি মনোভাব আবারও প্রমাণিত হল।
একাধিক নতুন পদ সৃষ্টির অনুমোদন
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শুধু কমন ক্যাডার নয়, বিভিন্ন দপ্তরের জন্য মোট ১০টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র দপ্তরে ৪ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের অনুমোদন মিলেছে। পাশাপাশি সাফ গেমস ও এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের জন্য ১৭টি শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুডিশিয়াল আধিকারিকদের আবাসনের জন্য উপ-নিরাপত্তা আধিকারিক পদ তৈরিতেও সম্মতি দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
রাজ্য সরকারি দপ্তরের ডিরেক্টরেট কর্মীদের জন্য ‘কমন ক্যাডার’ চালুর সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এর ফলে পদোন্নতির সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনই প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য দপ্তরেও বদলি করা যাবে কর্মীদের।










