বারাণসী ও চন্দৌলীতে ২৬ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ এনকাউন্টারে গুলি করে হত্যা করেছে। অভিযুক্তকে স্থানীয়ভাবে “সাইকো কিলার” বলে উল্লেখ করা হচ্ছিল। জানা গেছে, তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরপ্রাপ্ত ছিলেন এবং ঘটনার পর নিজেকে “মনের রাজা” বলে দাবি করতেন।
টানা তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হয় এবং সন্ধ্যার পর অনেকেই ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেন। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের ওপর চাপ বাড়ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর এলাকায় ঘেরাও অভিযান চালানো হয়। সেই সময় তিনি পালানোর এবং পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। পাল্টা পদক্ষেপে তিনি আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চন্দৌলী পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের আচরণ মানসিকভাবে অস্বাভাবিক ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে উঠে এসেছে যে তিনি নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা এবং অধিক ক্ষমতাশালী মনে করতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে বিভিন্ন স্থানে তিনজনকে হত্যা করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের ধরন ছিল অত্যন্ত নৃশংস, যা স্থানীয়দের মধ্যে ভয় তৈরি করে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর অভিযুক্ত গ্রামেই বসবাস করতেন। শুরুতে কেউ তার ওপর সন্দেহ করেনি। ধারাবাহিক হত্যার পর তার নাম সামনে আসে।
উত্তর প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বাড়তে থাকা অপরাধমূলক ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে পুলিশের দাবি, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এনকাউন্টারের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। একাংশ পুলিশের পদক্ষেপের সমর্থন জানালেও, কিছু ব্যবহারকারী পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
চন্দৌলী পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্তের অতীত রেকর্ড, মানসিক অবস্থা এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর মানসিক অস্থিরতা ও সহিংস প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা অনেক সময় আকস্মিকভাবে ভয়াবহ অপরাধ ঘটাতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সময়মতো শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি।













