বলিউডে সাফল্যের স্বপ্ন নিয়ে বহু শিল্পীই অভিনয় জগতে পা রাখেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন সাঈদা খান। মাত্র ১১ বছর বয়সে শিশুশিল্পী হিসেবে তাঁর অভিনয় জীবন শুরু হয়। একটি ফিল্ম পার্টিতে তাঁকে দেখে প্রযোজক এইচ এস রাওয়াইল মুগ্ধ হন। এরপর তাঁর ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান সাঈদা।১৯৬১ সালে ‘কাঞ্চ কি গুড়িয়া’ ছবিতে মনোজ কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে নজরে আসেন তিনি। পরবর্তীকালে একাধিক হিন্দি ছবিতে কাজ করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন এই অভিনেত্রী।
কিশোর কুমারের সঙ্গেও করেছিলেন অভিনয়
সাঈদা খানের অভিনয় জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় ছিল কিশোর কুমারের সঙ্গে কাজ করা। ‘আপনা হাত জগন্নাথ’ ছবিতে তাঁর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন তিনি। এছাড়াও ‘মডার্ন গার্ল’, ‘ওয়ান্টেড’, ‘ফ্ল্যাট নম্বর ৯’, ‘হাম মাতওয়ালে নৌজওয়ান’, ‘এক সাল পেহেলে’, ‘কন্যাদান’ এবং ‘বাসনা’-সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করেন সাঈদা।তবে একটা সময়ের পর তাঁর হাতে কাজের সংখ্যা কমতে শুরু করে। নায়িকার পরিবর্তে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগই বেশি আসতে থাকে।
বিয়ের পর বদলে যায় জীবন
ষাটের দশকের শেষ দিকে বলিউডে তাঁর কাজ অনেকটাই কমে যায়। এই সময় প্রযোজক ও পরিচালক ব্রিজ সদানার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর অভিনয় থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান সাঈদা।বিয়ের পর তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেন এবং নতুন নাম নেন সুধা সদানা। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান—কন্যা নম্রতা এবং পুত্র কমল।
সুখের সংসারেই নেমে আসে অন্ধকার
বিয়ের পর সাঈদার জীবন আর পাঁচটা সাধারণ সংসারের মতো থাকেনি। স্বামী ব্রিজ সদানাকে ঘিরে নানা সমস্যার কথা সামনে আসে। তাঁর সন্দেহপ্রবণতা এবং রাগ ক্রমশ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।শেষ পর্যন্ত সেই দাম্পত্য জীবনের পরিণতি হয় অত্যন্ত ভয়াবহ।
ছেলের জন্মদিনেই মর্মান্তিক ঘটনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছেলে কমলের ২০তম জন্মদিনের দিন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। ব্রিজ সদানা তাঁর স্ত্রী সাঈদা এবং মেয়ে নম্রতাকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর নিজেও আত্মহত্যা করেন।এক মুহূর্তে শেষ হয়ে যায় একটি পরিবারের তিনটি জীবন। আর বলিউডের একসময়ের পরিচিত মুখ সাঈদা খানের জীবনও থেমে যায় অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে।
একসময় বলিউডে শিশুশিল্পী হিসেবে পা রেখেছিলেন সাঈদা খান। পরবর্তীতে একাধিক ছবিতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে পরিচিতিও তৈরি করেছিলেন। কিশোর কুমারের সঙ্গেও কাজ করেছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ পরিণতি। বিয়ের পর ধর্ম পরিবর্তন করে সংসার শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত স্বামীর হাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান এই অভিনেত্রী।








