১২ সেপ্টেম্বর ইন্দোরে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচি, ৫০ হাজার ছাত্র-যুবককে জড়ো করার লক্ষ্য

কংগ্রেস ১২ সেপ্টেম্বর ইন্দোরের নেহরু স্টেডিয়ামে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচিতে ৫০ হাজারের বেশি ছাত্র ও যুবককে জড়ো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কলেজ, কোচিং প্রতিষ্ঠান, ব্লক ও বিধানসভা স্তরে যোগাযোগ অভিযান এবং রেজিস্ট্রেশনের পরিকল্পনা রয়েছে।

কংগ্রেস ১২ সেপ্টেম্বর ইন্দোরের নেহরু স্টেডিয়ামে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচিতে ৫০ হাজারের বেশি ছাত্র ও যুবককে জড়ো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ জন্য কলেজ, কোচিং প্রতিষ্ঠান, ব্লক এবং বিধানসভা স্তরে প্রচারাভিযান চালানো হবে।

মধ্যপ্রদেশে ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। এই কৌশলের অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর ইন্দোরের নেহরু স্টেডিয়ামে ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছে। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। কংগ্রেস কর্মসূচিতে ৫০ হাজারের বেশি ছাত্র ও যুবককে জড়ো করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

দলের দাবি, এটি ইন্দোরে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ছাত্র-যুব কর্মসূচি হবে। কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারির বাসভবনে বৈঠকও হয়েছে। রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মঞ্চে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। কংগ্রেসের কোনও নেতাকে মঞ্চে স্থান দেওয়া হবে না।

ইন্দোর মধ্যপ্রদেশের একটি প্রধান শিক্ষা কেন্দ্র। শহরে বিপুল সংখ্যক কলেজ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যুবকরাও এখানে থাকেন। কংগ্রেস এই শিক্ষার্থী ও যুবকদের মধ্যে নিজেদের যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলেজ ও কোচিং প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছোট পরিসরে যোগাযোগ অভিযান চালানো হবে। কর্মীরা শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে তাঁদের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করবেন। এর জন্য আগামী দিনগুলিতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

শহর কংগ্রেস সভাপতি চিন্টু চৌকসের মতে, কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যুবকরা অংশ নেবেন। এ জন্য কংগ্রেসের সাংগঠনিক স্তরে কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রদেশ কংগ্রেস থেকে স্থানীয় সংগঠন পর্যন্ত সবাই এই অভিযানে যুক্ত থাকবে। ব্লক থেকে বিধানসভা স্তর পর্যন্ত কর্মীরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন। দলের কৌশল অনুযায়ী, যোগাযোগে আসা শিক্ষার্থীরা তাঁদের কলেজ ও বন্ধু গোষ্ঠীর অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও কর্মসূচিতে যুক্ত করবেন। এভাবে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক যুবকের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।

কংগ্রেস আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

১২ সেপ্টেম্বর ইন্দোরে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচি, ৫০ হাজার ছাত্র-যুবককে জড়ো করার লক্ষ্য

দল এই আয়োজনকে শুধুমাত্র জনসমাগমের কর্মসূচি হিসেবে দেখছে না। কংগ্রেস এটিকে বৃহত্তর যুব যোগাযোগ অভিযান হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে। কর্মসূচির আগে কলেজ ক্যাম্পাস ও কোচিং সেন্টারগুলিতে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরবর্তীতেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কৌশল তৈরি করা হচ্ছে।

‘ছাত্রদের আওয়াজ’ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পেপার ফাঁস, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষার উচ্চ ব্যয়, বেকারত্ব, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কর্মসংস্থান।

কংগ্রেসের মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও পরামর্শ সামনে নিয়ে আসা। জুন মাসেও এই অভিযানের অধীনে শিক্ষার্থীদের নিজেদের সমস্যা ও পরামর্শ জানানো এবং স্বাক্ষর অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

‘ছাত্রদের আওয়াজ’ উদ্যোগের অধীনে রাহুল গান্ধী এর আগে দেরাদুন, প্রয়াগরাজ এবং পুনেতে ছাত্রদের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এবার ইন্দোরকে এই অভিযানের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাহুল গান্ধীর ইন্দোর সফরকে কংগ্রেস রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। প্রায় আট মাস আগে ভাগীরথপুরা দূষিত জলকাণ্ডে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে রাহুল গান্ধী ইন্দোরে এসেছিলেন। এবার তাঁর সফরের মাধ্যমে শহর ও মালওয়া অঞ্চলের তরুণ ভোটারদের কাছে সরাসরি পৌঁছনোর চেষ্টা করছে দল।

কর্মসূচিটিকে যুবকদের মধ্যে আকর্ষণীয় করে তুলতে কংগ্রেস একটি মিউজিক্যাল গ্রুপের পরিবেশনারও প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোনও বড় গায়ক বা মিউজিক্যাল গ্রুপকে কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পী বা গ্রুপের নাম নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিল্লি স্তর থেকে নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।

ইন্দোর জেলার সব নয়টি বিধানসভা আসনেই বর্তমানে বিজেপির বিধায়ক রয়েছেন এবং জেলা থেকে কংগ্রেসের কোনও বিধায়ক নেই। এই পরিস্থিতিতে ইন্দোরে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা কংগ্রেসের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। দল এখন যুবক ও নতুন ভোটারদের মধ্যে সক্রিয়তা বাড়িয়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করছে। ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ কর্মসূচি এই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

 

Leave a comment