রাখিবন্ধনের দিনে ভাই-বোনের সম্পর্কের এক অন্যরকম মানবিক ছবি দেখা গেল মালদহে। খাবার বিলি করতে গিয়ে মন্দির চত্বরে অসহায় অবস্থায় বসে থাকা এক তরুণীকে দেখতে পান কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। কথা বলতেই জানা যায়, তিনি পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেখানে এসে পড়েছেন। এরপর শুরু হয় পরিবারের সন্ধান। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিরাপদে তাঁর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় তরুণীকে। বিদায়ের আগে যাঁরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের হাতেই রাখি পরিয়ে দেন তিনি।
মন্দির চত্বরে একা তরুণী, সন্দেহ স্বেচ্ছাসেবীদের
প্রতিদিনের মতোই অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করতে বেরিয়েছিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। মালদহ শহরের হ্যান্টা কালী মন্দির এলাকায় গিয়ে তাঁদের নজরে আসে এক তরুণী।দীর্ঘক্ষণ ধরে তাঁকে মন্দির চত্বরে একা ও অসহায় অবস্থায় বসে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় সংগঠনের সদস্য ভাস্কর ও বিকাশের। তাঁরা তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। কথাবার্তার পর জানা যায়, তাঁর বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ এলাকায় এবং শ্বশুরবাড়ি মালদহের হবিবপুরে।
পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা
পরিচয় জানার পর তরুণীর পরিবারের সন্ধান শুরু হয়। হবিবপুরের পার্থ মুর্মু এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য বাচ্চু মুন্ডার সহযোগিতায় তাঁর শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়।কিন্তু বাড়িটি দুর্গম গ্রামীণ এলাকায় হওয়ায় গভীর রাতে পরিবারের লোকজনের পক্ষে সেখানে পৌঁছনো সম্ভব ছিল না। ফলে তরুণীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁকে থানায়নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদ আশ্রয়
রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ বিষয়টি ইংরেজবাজার থানার আইসিকে জানান স্বেচ্ছাসেবীরা। তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে পুলিশ তরুণীকে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়এরপর শুরু হয় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া। জানা যায়, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর তরুণীর বাড়ি ফেরার পথও পরিষ্কার হয়।
রাখির দিনে পরিবারের হাতে ফিরলেন তরুণী
পরদিন ছিল রাখিবন্ধন উৎসব। সেই বিশেষ দিনেই ইংরেজবাজার থানার মাধ্যমে তরুণীকে পরিবারের হাতে তুলে দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার আগে নিজের কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন তিনি। মুহূর্তেই তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বিপদের সময়ে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের নিজের ‘দাদা’ হিসেবেই যেন আপন করে নিলেন তরুণী।
‘রাখির দিনে পরিবারে ফিরিয়ে দিতে পেরে আনন্দিত’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ জানান, নিয়মিত খাবার বিতরণের সময়ই তাঁদের নজরে এসেছিলেন ওই তরুণী। কথা বলার পর তাঁর পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারেন তাঁরা। এরপর ঠিকানা খুঁজে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।তিনি জানান, পুলিশের মাধ্যমে তরুণীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে তাঁরা অত্যন্ত খুশি। বিশেষ করে রাখির দিনে তাঁকে পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে পারায় এই উদ্যোগ তাঁদের কাছে আরও আনন্দের হয়ে উঠেছে।
মানবিকতার বার্তা মালদহে
পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে নিরাপদে আপনজনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশংসা পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। স্থানীয়দেরও বক্তব্য, উৎসবের দিনে এমন মানবিক উদ্যোগ রাখিবন্ধনের আসল বার্তাকেই আরও গভীর করে তুলেছে।রাখি শুধু ভাই-বোনের বন্ধনের প্রতীক নয়, বিপদের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিও। মালদহের এই ঘটনাই যেন সেই বার্তাকে আরও একবার সামনে এনে দিল।
মালদহের হ্যান্টা কালী মন্দির চত্বরে অসহায় অবস্থায় এক তরুণীকে দেখতে পান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। পরিচয় জানার পর পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁর পরিবারের খোঁজ করা হয়। রাতের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন রাখির দিনে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার আগে স্বেচ্ছাসেবীদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন তরুণী।












