IMD-এর আবহাওয়ার খবরের মতোই এবার বিনোদন দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে মানবিক এক অভিজ্ঞতা। দক্ষিণী সিনেমার শক্তিশালী অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা রাজেশ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে এনেছেন কেরিয়ারের শুরুর দিকের যৌন হেনস্থার অভিজ্ঞতা। তাঁর সেই বক্তব্য ঘিরে আবারও প্রশ্ন উঠছে চলচ্চিত্র জগতে নারীদের সুরক্ষা ও সম্মান নিয়ে।
পডকাস্টে অকপট স্বীকারোক্তি
নিখিল বিজয়েন্দ্র সিমহার পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে ঐশ্বর্যা রাজেশ জানান, অভিনয়জীবনের একেবারে শুরুতে একটি শুটের জন্য তিনি দাদার সঙ্গে গিয়েছিলেন। সেই শুটেই ঘটে যায় এমন একটি ঘটনা, যা আজও তাঁকে আতঙ্কিত করে তোলে।
ফটোগ্রাফারের অনৈতিক আচরণে আতঙ্ক
অভিনেত্রীর কথায়, ওই ফটোগ্রাফার তাঁর দাদাকে বাইরে অপেক্ষা করতে বলে তাঁকে আলাদা ঘরে নিয়ে যান। এরপর তাঁকে লিঞ্জারি পরার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “আমি তোমার শরীরটা দেখতে চাই।” এই কথায় তিনি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েন।
অল্প বয়স, বড় বিপদ
ঐশ্বর্যা জানান, সেই সময় তিনি খুবই অল্প বয়সি ছিলেন এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রথমে পুরোপুরি বুঝতে পারেননি। কিছুক্ষণের জন্য তিনি প্রায় রাজিও হয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু অন্তর থেকে একটি অস্বস্তি কাজ করায় তিনি সাহস করে বলেন, দাদার অনুমতি ছাড়া তিনি কিছুই করবেন না। এই কথাতেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন তিনি।
পরিবারের কাছেও বলা হয়নি সেই কথা
অভিনেত্রী জানান, ওই ঘটনার কথা তিনি কখনও তাঁর দাদাকে বলেননি। পরে ভেবে দেখেছেন, তাঁর মতো এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি আরও কত নবীন অভিনেত্রী হয়েছেন বা হচ্ছেন—এই প্রশ্ন আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে।
অপমানের আরেক অধ্যায়
শুধু এই ঘটনাই নয়, কেরিয়ারের শুরুতে আরও এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান ঐশ্বর্যা। এক পরিচালক শুটিং ফ্লোরে সকলের সামনে তাঁকে প্রকাশ্যে অপমান করেছিলেন। কয়েক মিনিট দেরিতে পৌঁছনোর জন্য জুনিয়র শিল্পীদের সামনেই তাঁকে তুলনা ও তিরস্কার করা হয়েছিল।
লড়াই পেরিয়ে সাফল্য
এই সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ঐশ্বর্যা রাজেশ। Vada Chennai, Attakathi, Kanaa-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গিয়েছে Theeyavar Kulaigal Nadunga এবং ২০২৫-এর হিট ছবি সংক্রান্তিকি বস্তুন্নাম-এ।
দক্ষিণী চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা রাজেশ সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের অভিনয়জীবনের শুরুর দিকের এক আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। এক ফটোগ্রাফারের অনৈতিক প্রস্তাব এবং ইন্ডাস্ট্রিতে অপমানের অভিজ্ঞতা নতুন করে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।













