Ajit Agarkar-Rohit Sharma: রোহিতকে নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে দূরত্ব! আগরকরের সিদ্ধান্তে বাধা এসেছিল কোথায়, প্রকাশ্যে এল নানা তথ্য

রোহিত শর্মার ODI ভবিষ্যৎ নিয়ে অজিত আগরকর ও BCCI-এর মধ্যে মতপার্থক্যের খবর প্রকাশ্যে। ২০২৭ বিশ্বকাপ, যশস্বী জয়সওয়াল ও VVS লক্ষ্মণকে ঘিরে কী জানা যাচ্ছে?

ভারতীয় ক্রিকেটে অজিত আগরকরের প্রধান নির্বাচক হিসেবে ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন তাঁর সঙ্গে বিসিসিআইয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের বেশ কিছু কারণ সামনে এসেছে। PTI-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল রোহিত শর্মার ODI ভবিষ্যৎ। নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে রোহিতকে নিয়ে যে পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল, পরে বোর্ডের প্রকাশ্য অবস্থান সেই পরিকল্পনাকে বদলে দেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রোহিতকে নিয়ে কী পরিকল্পনা ছিল?

PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজের আগে নির্বাচক কমিটি এবং টিম ম্যানেজমেন্ট রোহিতকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করেছিল। দক্ষিণাঞ্চলের নির্বাচক প্রজ্ঞান ওঝাকে রোহিতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।এর পেছনে ২০২৭ সালের ODI বিশ্বকাপের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। রোহিত তখন বয়সের দিক থেকে চল্লিশের কাছাকাছি থাকবেন। তাই তরুণ যশস্বী জয়সওয়ালকে পর্যাপ্ত ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

কেন যশস্বীকে সুযোগ দেওয়ার কথা উঠেছিল?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে যশস্বীকে প্রায় ২০টি ওয়ানডে ম্যাচে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা ভাবা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তাঁকে নিয়মিত ওয়ানডে ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া।অন্যদিকে, রোহিতের বয়স এবং দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত তাঁর পারফরম্যান্স কেমন থাকবে, তা নিয়ে নির্বাচকদের মধ্যে আলোচনা ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এরপরই বদলে যায় পরিস্থিতি

রোহিত নির্বাচকদের সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর তিনি বিসিসিআইয়ের এক প্রভাবশালী প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে সূত্রের দাবি।এর পরেই তৎকালীন বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া প্রকাশ্যে রোহিতকে সমর্থন করে মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটিই রোহিতের শেষ ODI হবে—এমন কোনও আলোচনা হয়নি এবং রোহিত যতদিন দলের পরিকল্পনার অংশ থাকবেন, ততদিন ভারতের হয়ে খেলবেন।

রোহিতের সেঞ্চুরিও বদলে দেয় পরিস্থিতি

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লর্ডসের সেই ম্যাচে ভারত হারলেও রোহিত শর্মা দুর্দান্ত শতরান করেছিলেন। PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই পারফরম্যান্সের পর রোহিতকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।একই প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এই সময়েই আগরকর বুঝতে পারেন যে রোহিতের মতো প্রতিষ্ঠিত ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁর একক নিয়ন্ত্রণ নেই।

শুধু রোহিত নন, VVS লক্ষ্মণের সঙ্গেও মতপার্থক্য

আগরকর-বিসিসিআই সম্পর্কের টানাপোড়েনের আরেকটি কারণ হিসেবে VVS লক্ষ্মণের সঙ্গে তাঁর মতপার্থক্যের কথা উঠে এসেছে।Centre of Excellence-এর দায়িত্বে থাকা লক্ষ্মণের সঙ্গে চোট পাওয়া ক্রিকেটারদের ব্যবস্থাপনা এবং India A দলের সূচি নিয়ে মতপার্থক্য হয়েছিল বলে PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।India A দলের ম্যাচের সঙ্গে ইরানি কাপ এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচি নিয়ে সংঘাতও সমস্যা বাড়িয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া চোট পাওয়া কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের পুনর্বাসন এবং Centre of Excellence-এর কিছু বিষয় নিয়েও মতবিরোধের কথা সামনে এসেছে।

গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ বৈঠকেও তৈরি হয় বিতর্ক

ইংল্যান্ড সিরিজের পর মুম্বইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানে ইংল্যান্ড সফরের ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।PTI-ভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগরকর সেই বৈঠকে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না এবং দূর থেকেও যোগ দেননি। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া অবশ্য বৈঠকটি অল্প সময়ের নোটিসে ডাকা হয়েছিল এবং আগরকর বাইরে ছিলেন বলে তাঁর অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন কী জানা যাচ্ছে?

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, আগরকর আর তাঁর মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে চাননি। একই সময়ে বিসিসিআই তাঁর জায়গায় নতুন প্রধান নির্বাচক খোঁজার প্রক্রিয়া নিয়ে ভাবছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আলাদা বিষয়।এদিকে, রোহিত শর্মা বর্তমানে ভারতের ODI পরিকল্পনায় রয়েছেন। ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আসন্ন তিন ম্যাচের ODI সিরিজের দলে রোহিত ও বিরাট কোহলির নাম রয়েছে; শুবমন গিল অধিনায়ক এবং কেএল রাহুল সহ-অধিনায়ক।

অজিত আগরকরের প্রধান নির্বাচক পদ ছাড়ার নেপথ্যে রোহিত শর্মার ODI ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে মতপার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল বলে PTI-ভিত্তিক একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে রোহিতের জায়গায় যশস্বী জয়সওয়ালকে সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পরে বিসিসিআই প্রকাশ্যে রোহিতকে সমর্থন করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। তবে এগুলি মূলত সূত্র ও প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত তথ্য; বোর্ডের তরফে প্রতিটি দাবির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই।

Leave a comment