সরস্বতী পুজোর আনন্দের মধ্যেই অশোকনগর বিদ্যাসাগর বাণীভবন স্কুলে হঠাৎ যেন সিনেমার দৃশ্য। একের পর এক নীল বাতি লাগানো এসইউভি, সঙ্গে কালো পোশাকধারী বাউন্সার—এই অস্বাভাবিক দৃশ্য ঘিরে আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে স্কুল চত্বরে। পরে জানা যায়, পুরো ঘটনাটির নেপথ্যে রয়েছে ‘হিরো’ হওয়ার নেশা।
নীল বাতির কনভয় দেখে হতবাক স্কুল
সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ স্কুল গেটে ঢোকে চারটি এসইউভি গাড়ির কনভয়। গাড়িতে বসানো নীল বাতি এবং একে একে নেমে আসা প্রায় ২০ জন বাউন্সার দেখে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরা রীতিমতো অবাক হয়ে যান।
নিজেকে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার দাবি
গাড়ি থেকে নেমে ওই কিশোর নিজেকে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার বলে পরিচয় দেয়। দাবি করে, গুজরাটে গিয়ে সে নাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এমন উচ্চপদ—এই প্রশ্নেই সন্দেহ দানা বাঁধে স্কুল কর্তৃপক্ষের।
পুলিশের ডাক, ফাঁস হল সত্য
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে স্কুলের প্রধান শিক্ষক অশোকনগর থানায় খবর দেন। পুলিশ পৌঁছানোর পরেই সামনে আসে আসল ঘটনা। জানা যায়, ওই কিশোর স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র এবং বন্ধুদের চমক দিতেই এমন নাটক সাজিয়েছিল।
‘হিরো’ হওয়ার নেশায় সাজানো পরিকল্পনা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগেভাগেই পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল নাবালকটি। চারটি এসইউভি গাড়ি ভাড়া করা হয় প্রায় ১৮ হাজার টাকায়। পাশাপাশি একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে বাউন্সার ভাড়াও করা হয়েছিল, যাদের পারিশ্রমিক দেওয়ার কথাও ছিল।
সন্দেহজনক হলেও গুরুত্ব দেয়নি সংস্থা
বাউন্সারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সকাল ন’টার মধ্যে বিল্ডিং মোড় সংলগ্ন বাড়িতে রিপোর্ট করতে। বয়স কম হওয়া ও গোটা বিষয়টি কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।
নাবালক হওয়ায় আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
ঘটনাটি বেশিক্ষণ গোপন থাকেনি। নাবালক হওয়ায় পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। কেন সে এমন কাণ্ড ঘটাল এবং এর পিছনে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরস্বতী পুজোর দিনে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নীল বাতি লাগানো কনভয় ও বাউন্সার বাহিনী নিয়ে নিজের পুরনো স্কুলে হাজির হয়েছিল মাত্র ১৬ বছরের এক নাবালক। নিজেকে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার দাবি করলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে ফাঁস হয় আসল সত্য।









