অযোধ্যা রাম মন্দির চড়াওয়া মামলায় এসআইটির প্রাথমিক রিপোর্ট, এফআইআর ও পাঁচ বছরের অডিটের সুপারিশ

অযোধ্যা দেশ সরকারের কাছে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে এফআইআর, গত পাঁচ বছরের চড়াওয়ার অডিট, ট্রাস্ট পুনর্গঠন, নিয়মিত আর্থিক নিরীক্ষা এবং সিসিটিভি নজরদারি জোরদারের সুপারিশ করা হয়েছে।

অযোধ্যার রাম মন্দিরে চড়াওয়া সংক্রান্ত কথিত অনিয়মের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে নজরদারি ব্যবস্থা, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বিস্তারিত তদন্ত, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ট্রাস্টের কার্যপদ্ধতিতে পরিবর্তনের জন্য বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে।

অযোধ্যার রাম মন্দিরে চড়াওয়া সংক্রান্ত কথিত অনিয়মের মামলায় গঠিত এসআইটি সরকারের কাছে প্রায় ২০ পৃষ্ঠার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা, চড়াওয়া গণনার প্রক্রিয়া এবং নজরদারি ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। সেখানে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের, গত পাঁচ বছরের চড়াওয়ার নিরীক্ষা এবং ট্রাস্ট পুনর্গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে।

এসআইটি এই মামলায় কোনো পক্ষকেই সম্পূর্ণভাবে ক্লিনচিট দেয়নি এবং বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার শিগগিরই পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে। তদন্তকারী দলের মতে, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বর্তমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের পুনর্গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী দলের মতে, মন্দিরের প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ এবং পেশাদার করার প্রয়োজন রয়েছে।

অযোধ্যা রাম মন্দির চড়াওয়া মামলায় এসআইটির প্রাথমিক রিপোর্ট, এফআইআর ও পাঁচ বছরের অডিটের সুপারিশ

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মন্দিরের প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে। পাশাপাশি চড়াওয়া থেকে প্রাপ্ত অর্থের নিয়মিত নিরীক্ষা এবং দৈনিক রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্তকারী দল গত পাঁচ বছরে মন্দিরে প্রাপ্ত চড়াওয়ার বিশেষ নিরীক্ষার সুপারিশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নগদের পাশাপাশি ভক্তদের দেওয়া কিছু গয়না এবং অন্যান্য সামগ্রীর সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন।

এসআইটি আরও সুপারিশ করেছে যে চড়াওয়ার অর্থের সাপ্তাহিক নিরীক্ষা করা হোক এবং মন্দিরে প্রাপ্ত দানের প্রতিদিনের রেকর্ড প্রস্তুত করা হোক। এর মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অনিয়ম প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

প্রতিবেদনে মন্দির প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসআইটি সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং সংরক্ষণের সময়সীমা ৪৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৮০ দিন করার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কার্যকলাপের ওপর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত চলাকালে ট্রাস্ট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিসহ প্রায় ১৫০ জনের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য এবং উপলব্ধ নথির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলোর আরও বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে এসেছে। বিরোধী দলগুলো প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে এখন নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

 

Leave a comment