রান্নাঘরের একটি পরিচিত উপাদান হল বেকিং সোডা। পকোড়া, কেক বা বিভিন্ন খাবার ফুলিয়ে তুলতে যেমন এটি ব্যবহৃত হয়, তেমনই অনেকেই অম্বল বা গ্যাসের সমস্যায় দ্রুত আরাম পেতে সোডা মিশ্রিত জল পান করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, অজান্তেই অতিরিক্ত বেকিং সোডা খেলে শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

অম্বল কমাতে বেকিং সোডা— কিন্তু সবসময় নিরাপদ নয়
বেকিং সোডা অনেক সময় বদহজম, বুক জ্বালা বা অম্বলের সমস্যায় তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়। কারণ এটি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডকে সাময়িকভাবে নিরপেক্ষ করতে সাহায্য করে। তবে নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে এটি গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক অ্যাসিডের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।
অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে বিপদ ডেকে আনে
বেকিং সোডায় উচ্চমাত্রায় সোডিয়াম থাকে। বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে শরীরে লবণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে শরীরে জল জমে থাকা, ফোলাভাব বা রক্তচাপ বৃদ্ধির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদ্যন্ত্রের উপরও চাপ তৈরি করতে পারে।

পেটের সমস্যা ও খনিজ ভারসাম্যে বিঘ্ন
অতিরিক্ত বেকিং সোডা খেলে অনেকের ক্ষেত্রে পেটব্যথা, বমি ভাব বা অস্বস্তি দেখা দেয়। পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এমনকি হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা পর্যন্ত হতে পারে।
দীর্ঘদিন খেলে হজম ক্ষমতা কমে যেতে পারে
নিয়মিত বেকিং সোডা খেলে পাকস্থলীর প্রাকৃতিক অ্যাসিড উৎপাদনের প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে খাবার হজমের ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
এই ৫ জনের জন্য বেকিং সোডা ঝুঁকিপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেকিং সোডা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। যেমন—

উচ্চ রক্তচাপের রোগী
কিডনির সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি
হৃদরোগী
অন্তঃসত্ত্বা নারী
যাঁদের লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে
এছাড়া শিশুদের ক্ষেত্রেও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেকিং সোডা দেওয়া উচিত নয়।

বেকিং সোডা রান্না থেকে শুরু করে অম্বল বা বদহজমের ঘরোয়া টোটকায় বহু মানুষ ব্যবহার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ব্যবহার করলে এই উপকারী উপাদানই শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেকিং সোডা বিপদের কারণ হতে পারে।













