বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল হোস্টেলে এমবিবিএস শিক্ষার্থীর সন্দেহজনক মৃত্যু, তদন্ত শুরু

বারাণসীর বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল হোস্টেলে এক এমবিবিএস শিক্ষার্থীর সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা, কথিত হাতে লেখা নোট এবং ডিজিটাল আলামতসহ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল হোস্টেলে এমবিবিএস শিক্ষার্থীর সন্দেহজনক মৃত্যু, তদন্ত শুরু
Photo Credit / Attribution: Google

বারাণসীস্থিত বানারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল হোস্টেলে এক এমবিবিএস শিক্ষার্থীর সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী অ্যানেস্থেশিয়ার ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণ করেছিলেন, যার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে সহপাঠীরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা নোট উদ্ধার হওয়ার কথা সামনে এসেছে, যাতে কথিতভাবে লেখা ছিল, “মেয়েটিকে কিছু বলো না।” পুলিশ নোটটিরও তদন্ত করছে। বর্তমানে নোটটি কোন প্রেক্ষাপটে লেখা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন হবে না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষার্থীর কক্ষ সিল করে দেয়। কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রী, ওষুধ এবং অন্যান্য আলামত জব্দ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণের জন্য ফরেনসিক দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে ভিসেরা সংরক্ষণ করা হতে পারে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু সত্যিই অ্যানেস্থেশিয়ার অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের কারণে হয়েছে কি না, অথবা এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনায় শোক প্রকাশ করে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তাঁদের বারাণসীতে পৌঁছানোর পর পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। ঘটনার আগে কী পরিস্থিতি ছিল, সে সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য সহপাঠী এবং হোস্টেলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসও পরীক্ষা করবে। কল রেকর্ড, বার্তা এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার আগে তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হবে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের জল্পনা-কল্পনা করা উচিত নয় বলে কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন।

বর্তমানে পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। কথিত সুইসাইড নোটের সত্যতা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক আলামত এবং ডিজিটাল তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের বক্তব্য, তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।

Leave a comment