নয়ডার একটি উচ্চ-আবাসিক আবাসন কমপ্লেক্সে সোমবার ২১তম তলায় অবস্থিত একটি ফ্ল্যাটে এয়ার কন্ডিশনার (এসি)-তে কথিত বিস্ফোরণের পর আগুন লাগে। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাশের আরও দুটি ফ্ল্যাটে ছড়িয়ে পড়ে। উঁচু তলা থেকে আগুনের শিখা ও ঘন ধোঁয়া দূর থেকেও দেখা যায়।
ঘটনার সময় আবাসন কমপ্লেক্সজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ফ্ল্যাট ছেড়ে বাইরে নিরাপদ স্থানে চলে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই জানালা দিয়ে আগুনের শিখা বের হতে শুরু করে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে আবাসনের নিরাপত্তাকর্মীদের খবর দেন। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত ভবন খালি করার কাজ শুরু করেন এবং লিফটের ব্যবহার বন্ধ রেখে বাসিন্দাদের সিঁড়ি দিয়ে বাইরে নিয়ে যান।
খবর পেয়ে দমকল বিভাগের একাধিক গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। বহুতল ভবন হওয়ায় উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। দমকল কর্মীরা আবাসনের ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম এবং বাহ্যিক সম্পদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুনের বিস্তার রোধ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এরপর পুরো ভবনে তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিত করা হয় যে ভেতরে কেউ আটকে নেই।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এসি ইউনিটে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা হবে না। দমকল বিভাগ এবং বিদ্যুৎ নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এবং কী পরিস্থিতিতে আগুন লেগেছিল ও কীভাবে তা এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তা খতিয়ে দেখছেন।
আগুন লাগার সময় একাধিক ফ্ল্যাট ধোঁয়ায় ভরে যায়, ফলে কয়েকজনের শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু বাসিন্দাকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সময়মতো বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটগুলোতে ব্যাপক সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়েছে।
ঘটনার পর আবাসন কমপ্লেক্সে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হন। দমকল বিভাগ ও পুলিশ পুরো ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানোর কারণে অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় নিজেদের ফ্ল্যাটে ফিরতে পারেননি। অতিরিক্ত ঝুঁকি এড়াতে কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
দমকল বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকির প্রেক্ষিতে প্রতিটি আবাসনে ফায়ার সেফটি সিস্টেমের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম, স্মোক ডিটেক্টর, ফায়ার অ্যালার্ম, ফায়ার এক্সটিংগুইশার এবং জরুরি নির্গমনপথ সব সময় কার্যকর অবস্থায় থাকা উচিত। পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিয়মিত মক ড্রিল এবং জরুরি নির্গমন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের মৌসুমে এয়ার কন্ডিশনার এবং উচ্চ বিদ্যুৎ খরচকারী অন্যান্য যন্ত্রের ধারাবাহিক ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত লোড বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত বৈদ্যুতিক তার, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং যন্ত্রপাতির সার্ভিসিং করা প্রয়োজন। ত্রুটিপূর্ণ বা পুরোনো যন্ত্রপাতির ব্যবহার আগুন লাগার মতো ঘটনার কারণ হতে পারে।
বর্তমানে পুলিশ ও দমকল বিভাগ পুরো ঘটনার তদন্ত করছে। অগ্নিকাণ্ডে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তারা মানুষকে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি নিরাপদে ব্যবহার, নিয়মিত সার্ভিসিং করানো এবং কোনো ধরনের স্পার্কিং বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।










