এক সময় যে বাঁকুড়া ছিল সিনেমা হলের শহর, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বড় পর্দার আলো নিভে ছিল। সেই অন্ধকার কাটতে চলেছে। বাঁকুড়া শহরের অদূরে শালবনি এলাকায় তৈরি হচ্ছে অভিনব ডোম আকৃতির আধুনিক মিনি থিয়েটার, যা আবারও ফিরিয়ে আনতে চলেছে সিনেমা দেখার আনন্দ।
হারিয়ে যাওয়া সিনেমা সংস্কৃতির স্মৃতি
একসময় বাঁকুড়া ও আশপাশের এলাকায় কুসুম, বিশ্বকর্মা, বীণাপাণি, চণ্ডীদাস ও শিবানীর মতো পাঁচটি সিনেমা হল ছিল। সেই দিনগুলিতে সিনেমা দেখা ছিল সামাজিক জীবনের অঙ্গ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব হল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জেলার সিনেমাপ্রেমীদের ভরসা ছিল দুর্গাপুর—যা খরচ ও সময় দু’দিক থেকেই চাপের ছিল।
দীর্ঘদিনের দাবি, অবশেষে বাস্তব রূপ
এই বাস্তবতার মাঝেই সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, বাঁকুড়ায় অন্তত একটি আধুনিক সিনেমা হল গড়ে তোলা হোক। সেই দাবি পূরণ করতে উদ্যোগ নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী পার্থ গড়াই। “ছোটু মহারাজ” ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁর উদ্যোগেই তৈরি হচ্ছে এই ডোম আকৃতির মিনি থিয়েটার।
ডোম থিয়েটারের বৈশিষ্ট্য কী কী?
শালবনি–ছাতনা রোডের ধারে তৈরি এই থিয়েটারটি দেখতে অনেকটাই প্ল্যানেটরিয়ামের মতো। এটি একটি সিঙ্গেল স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহ, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১০০ জন দর্শক বসে সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন। নতুন ও জনপ্রিয় সব সিনেমাই এখানে দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় ভরপুর
প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি এই মিনি থিয়েটারে থাকছে—
উন্নত মানের ডিজিটাল প্রজেকশন
আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম
আরামদায়ক আসন
উন্নত মানের পর্দা
ছোট পরিসরের হলেও, বিনোদনের মান নিয়ে কোনও আপস করা হচ্ছে না বলেই জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
উদ্বোধনের দিনক্ষণ প্রায় চূড়ান্ত
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে এই ডোম আকৃতির মিনি থিয়েটারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হওয়ার কথা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বাঁকুড়ার মানুষ আবার নিজের শহরেই বড় পর্দার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। সিনেমা দেখতে আর দুর্গাপুর ছুটতে হবে না বাঁকুড়াবাসীকে। শালবনি–ছাতনা রোডে প্রায় প্রস্তুত আধুনিক ডোম আকৃতির মিনি থিয়েটার। একশো আসন, আধুনিক সাউন্ড ও উন্নত পর্দা—সব মিলিয়ে জেলার বিনোদন মানচিত্রে নতুন অধ্যায়।










