বরাহনগরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। রবিবার অরিত্র দাস নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিন্তু ঘটনায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অর্পণ দত্ত এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। এই নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

গ্রেপ্তার তিন, তবু অধরা অর্পণ
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর রবিবার ধরা পড়েন অরিত্র দাস (২৩)। এর আগে রাহুল যাদব ওরফে বগা এবং আয়ুষ কুন্ডু ওরফে গোপালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযোগ, ঘটনার সময় সাদা ফুলহাতা জামা পরা অর্পণ দত্তই নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁকে এখনও গ্রেপ্তার না করায় প্রশ্ন উঠছে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে।
‘শাসক ঘনিষ্ঠ’ তত্ত্বে বিরোধীদের আক্রমণ
অভিযোগ, অর্পণ স্থানীয় তৃণমূল শ্রমিক নেতা শঙ্কর রাউতের ঘনিষ্ঠ এবং বরাহনগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্র পরিষদ সভাপতি। বিরোধীদের দাবি, শাসক ঘনিষ্ঠতার কারণেই কি তাঁকে আড়াল করা হচ্ছে? বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, প্রয়োজনে তাঁরা Calcutta High Court–এর দ্বারস্থ হবেন। স্থানীয় বিধায়ক Sayantika Banerjee–র ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও তোলেন বিরোধীরা।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য
ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনার প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে। গ্রেপ্তারের পর জেরা করে শঙ্কর রাউতের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে বলেও তিনি জানান। তদন্তের স্বার্থে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দাবি পুলিশের।

কী অভিযোগ ব্যবসায়ীর?
ব্যবসায়ী সুদীপ্ত ঘোষের অভিযোগ, বরাহনগরের দেশবন্ধু রোডের বাসিন্দা তিনি। বারাসাতের একটি ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র ডিজাইনের কাজের ৮০ শতাংশ শেষ হলেও প্রাপ্য টাকা পাননি। কাজ বন্ধ করে দিলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। অভিযোগ, শুক্রবার রাতে সাত–আটজন মিলে তাঁকে ফ্ল্যাট থেকে মারতে মারতে বনহুগলি যুবকবৃন্দ ক্লাবের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এক লক্ষ টাকা তোলা দাবি করা হয় এবং ফ্ল্যাট মালিকের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ ফেরত দিতে চাপ দেওয়া হয়।
ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজ, বাড়ছে চাপ
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। যদিও ফুটেজের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, তবু তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়। এরপরই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সুদীপ্ত। তাঁর বক্তব্য, “যে অর্পণ দলবল নিয়ে আমাকে তুলে নিয়ে গেল, তাকে এখনও পুলিশ ধরতে পারেনি। আইনের পথেই লড়ব।

উত্তর ২৪ পরগনার Baranagar–এ তোলা চেয়ে না পাওয়ায় ব্যবসায়ী সুদীপ্ত ঘোষকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায় আরও এক অভিযুক্ত গ্রেপ্তার। তবে মূল অভিযুক্ত অর্পণ দত্ত এখনও পলাতক। শাসকদলের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তুলে সরব বিরোধীরা, পুলিশ বলছে—তদন্ত চলছে।










