নেশাগ্রস্ত ছেলের অত্যাচারে ক্ষোভের বিস্ফোরণ, রহড়ায় হাঁসুয়ার কোপে জখম যুবক—গ্রেপ্তার বৃদ্ধ বাবা

রহড়ার ঠাকুর কলোনিতে নেশাগ্রস্ত ছেলের উপর হাঁসুয়া নিয়ে চড়াও বৃদ্ধ বাবা। গুরুতর জখম যুবক কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার।

দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও ছেলের নেশার জেরে রক্তাক্ত পরিণতি। রবিবার দুপুরে রহড়া থানার অন্তর্গত ঠাকুর কলোনিতে মদ্যপ ছেলেকে হাঁসুয়ার কোপে জখম করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন বৃদ্ধ বাবা। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

দীর্ঘদিনের অশান্তির অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭০ বছরের বিশ্বনাথ দাস পেশায় রিকশাচালক। অভিযোগ, তাঁর ছেলে প্রসেনজিৎ দাস কোনও কাজকর্ম করতেন না, উল্টে বাবার উপার্জনের টাকায় নেশা করতেন। বৃদ্ধ বাবা–মায়ের উপর মারধরের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পরিবারে প্রায়ই অশান্তি লেগেই থাকত বলে দাবি প্রতিবেশীদের।

রবিবারের রক্তাক্ত বিকেল

রবিবার দুপুর প্রায় তিনটে নাগাদ প্রসেনজিৎ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। শুরু হয় বচসা। অভিযোগ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকির মুখে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিশ্বনাথ। বাড়িতে থাকা একটি হাঁসুয়া নিয়ে ছেলের মাথা লক্ষ্য করে পরপর কোপ মারেন বলে অভিযোগ। চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা এবং রক্তাক্ত অবস্থায় প্রসেনজিৎকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা, পুলিশি পদক্ষেপ

গুরুতর জখম প্রসেনজিৎ দাস বর্তমানে কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে রহড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত বৃদ্ধকে আটক করে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

কান্নায় ভেঙে পড়লেন বৃদ্ধ

পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বিশ্বনাথ দাস কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ঘটনার কথা স্বীকার করেন। প্রতিবেশী সুমিত রায়ের বক্তব্য, “ওই বৃদ্ধই রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। ছেলে দিনরাত নেশা করে অশান্তি করত। হয়তো সহ্য করতে না পেরেই এই ঘটনা।

উত্তর ২৪ পরগনার Rahara–র ঠাকুর কলোনিতে নেশাগ্রস্ত ছেলের উপর হাঁসুয়া নিয়ে চড়াও হন বৃদ্ধ বাবা। গুরুতর জখম প্রসেনজিৎ দাস চিকিৎসাধীন Kamarhati Sagar Dutta Medical College and Hospital–এ। অভিযুক্ত বিশ্বনাথ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Leave a comment