দুর্গাপুজো মানেই আলোর রোশনাই, চোখধাঁধানো মণ্ডপসজ্জা আর নানা ধরনের থিমের চমক। কিন্তু বসিরহাটের বঙ্গশ্রী ক্লাবের পুজোয় জাঁকজমকের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে পরিবেশ সচেতনতা। প্লাস্টিক কিংবা কৃত্রিম সাজসজ্জার বদলে নানা ধরনের গাছ ও প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুজো মণ্ডপ। প্রায় এক হাজার ঘরোয়া গাছের সবুজে ঘেরা এই আয়োজন দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরছে প্রকৃতিকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা।
হাজার গাছের সবুজে অন্য রূপে দুর্গাপুজো
উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বঙ্গশ্রী ক্লাবের পুজোয় এবার নজর কেড়েছে পরিবেশবান্ধব ভাবনা। শহর ও শহরতলিতে দ্রুত নগরায়নের ফলে কমছে গাছপালা, ছোট হচ্ছে সবুজের পরিসর। তার প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ভারসাম্যের উপরেও। এই পরিস্থিতিতে প্রকৃতিকে বাঁচানোর বার্তা ছড়িয়ে দিতে মণ্ডপসজ্জায় গাছপালাকেই বিশেষভাবে কাজে লাগিয়েছেন উদ্যোক্তারা।প্রায় এক হাজার ঘরোয়া গাছ দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ ও প্রতিমা। নারকেল গাছ, সুপারি পাতা, বাঁশ এবং মানিপ্লান্টের মতো নানা উপকরণে তৈরি হয়েছে সবুজে ঘেরা পরিবেশ। প্রচলিত মণ্ডপসজ্জার বাইরে গিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে সামনে তুলে ধরাই এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
নারকেল-সুপারি পাতা থেকে মানিপ্লান্ট, সাজসজ্জায় প্রকৃতির ছোঁয়া
বঙ্গশ্রী ক্লাবের মণ্ডপে ঢুকলেই চোখে পড়ে বিভিন্ন ধরনের গাছের উপস্থিতি। নারকেল ও সুপারি পাতার পাশাপাশি মানিপ্লান্ট এবং বাঁশের মতো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা আয়োজন।শুধু মণ্ডপের সৌন্দর্য বাড়ানো নয়, এই সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে গাছের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বাতাসের মান উন্নত করা এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই পুজোর আনন্দের সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন উদ্যোক্তারা।
শুধু গাছ লাগানো নয়, পরিচর্যার বার্তাও
অনেক সময় উৎসাহ নিয়ে নতুন গাছ লাগানো হলেও নিয়মিত পরিচর্যার অভাবে সেই গাছ বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না। বঙ্গশ্রী ক্লাবের পুজোর ভাবনায় তাই শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, গাছের যত্ন নেওয়ার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা ছোট্ট উঠোনেও গাছ লাগিয়ে সবুজ বাড়ানো সম্ভব। তবে গাছ লাগানোর পর নিয়মিত জল দেওয়া, প্রয়োজনমতো পরিচর্যা করা এবং গাছকে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়াও জরুরি। এই সহজ বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চায় বসিরহাটের এই পুজো।
বিশ্ব উষ্ণায়ন ও দূষণ রুখতে সবুজের গুরুত্ব
ক্রমবর্ধমান নগরায়ন এবং গাছপালার পরিমাণ কমে যাওয়ায় পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যার মোকাবিলায় সবুজের গুরুত্ব অপরিসীম।বঙ্গশ্রী ক্লাবের এই উদ্যোগ মনে করিয়ে দেয়, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসন বা কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের নয়। প্রত্যেক মানুষ নিজের বাড়ি ও আশপাশে গাছ লাগানো, গাছের পরিচর্যা করা এবং অপ্রয়োজনে সবুজ ধ্বংস না করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।
উৎসবের মঞ্চে পরিবেশ সচেতনতার অনন্য বার্তা
দুর্গাপুজোয় সাধারণত আলোকসজ্জা, শিল্পকর্ম এবং থিমের অভিনবত্ব দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। বসিরহাটের বঙ্গশ্রী ক্লাব সেই পরিচিত উৎসবের আবহে পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।প্রায় এক হাজার গাছের সমন্বয়ে তৈরি মণ্ডপ ও প্রতিমা শুধু দৃষ্টিনন্দন আয়োজন নয়, বরং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার একটি প্রয়াস। উৎসব শেষ হয়ে গেলেও এই বার্তা যেন মানুষের মনে থেকে যায়, সেটাই এই উদ্যোগের মূল তাৎপর্য।
কংক্রিটের জঙ্গলে হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ, বাড়ছে দূষণ ও বিশ্ব উষ্ণায়নের আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের বঙ্গশ্রী ক্লাব। প্রায় এক হাজার ঘরোয়া গাছ, নারকেল ও সুপারি পাতা, বাঁশ এবং মানিপ্লান্ট দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ ও প্রতিমা। শুধু গাছ লাগানো নয়, লাগানো গাছের যত্ন নেওয়া এবং সবুজকে বাঁচিয়ে রাখার বার্তাই এই পুজোর মূল আকর্ষণ।











