Bayron Biswas: ‘আমি হারছি’ ভবিষ্যদ্বাণী ভুল! সাগরদিঘীতে ৩৪ হাজারে জয়, সমীকরণ বদলে দিলেন বাইরন বিশ্বাস

সাগরদিঘী কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস ৩৪,৪২৫ ভোটে জয়ী। নিজের পরাজয়ের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে কী বললেন তিনি? পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।

নিজের মুখেই শোনা গিয়েছিল—“আমি হারছি!” কিন্তু গণনার শেষে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘী কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস বিপুল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়ে প্রমাণ করলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ে শেষ কথা বলে জনগণই।

ভবিষ্যদ্বাণী ভেঙে বড় জয়

নির্বাচনের আগে নিজের পরাজয়ের আশঙ্কা করেছিলেন বাইরন বিশ্বাস। কিন্তু ভোট গণনা শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে যায় তাঁর শক্তিশালী অবস্থান। শুরু থেকে লিড ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ৩৪,৪২৫ ভোটে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই ফলাফল তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

সাগরদিঘীতে উৎসবের আবহ

ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সাগরদিঘী জুড়ে তৃণমূল শিবিরে শুরু হয় উদযাপন। রাস্তায় নামে কর্মী-সমর্থকরা, হাতে দলীয় পতাকা, মুখে স্লোগান। সবুজ আবিরে রঙিন হয়ে ওঠে এলাকা, ঢাকের তালে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে গোটা অঞ্চলে।

 ‘মানুষের জয়’, বললেন বাইরন

জয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় বাইরন বিশ্বাস জানান, “এই জয় মানুষের জয়। তবে ব্যবধান আরও বেশি হবে ভেবেছিলাম।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, মানুষের সমর্থনই তাঁর সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। সাগরদিঘীর মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে বলেই দাবি করেন তিনি।

ফরাক্কা-জঙ্গিপুরে ধাক্কা, সুতি ধরে রাখল তৃণমূল

যদিও বাইরন বিশ্বাস আগেই বলেছিলেন ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, জঙ্গিপুর সহ একাধিক কেন্দ্রে তৃণমূল হারতে পারে—সেই পূর্বাভাস আংশিকভাবে সত্যি হয়েছে। ফরাক্কা ও জঙ্গিপুরে শাসকদল পিছিয়ে পড়লেও সুতি কেন্দ্র নিজেদের দখলে রেখেছে তৃণমূল। ফলে জেলাজুড়ে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে।

রাজনৈতিক বার্তা কী?

এই জয় শুধুমাত্র সংখ্যার নিরিখে নয়, রাজনৈতিক বার্তাতেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় স্তরে উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত সংযোগ—এই দুইই বাইরনের জয়ের মূল কারণ। একই সঙ্গে এই ফলাফল আগামী দিনে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

ভোটের আগে নিজেই হারার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বাইরন বিশ্বাস। কিন্তু ফলাফল উল্টে দিল সব হিসেব—সাগরদিঘীতে ৩৪,৪২৫ ভোটে জিতে দ্বিতীয়বারের মতো বিধায়ক হলেন তিনি। ফরাক্কা-জঙ্গিপুরে ধাক্কা খেলেও নিজের ঘাঁটি ধরে রাখল তৃণমূল।

Leave a comment