জয়পুরের মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে ডিউটির সময় পিজি চিকিৎসকের সন্দেহজনক মৃত্যু, তদন্ত শুরু

জয়পুরের মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে ডিউটির সময় অপারেশন থিয়েটারে পিজি দ্বিতীয় বর্ষের চিকিৎসক ডা. সুনীল কুমারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহজনক হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে পোস্টমর্টেম রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

জয়পুরের মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ডিউটির সময় পিজি দ্বিতীয় বর্ষের চিকিৎসক ডা. সুনীল কুমারের সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। সোমবার সকালে সহকর্মীরা তাকে অপারেশন থিয়েটারের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি হাসপাতাল চত্বরে উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত চিকিৎসকের পরিচয় ডা. সুনীল কুমার (৩০), পিতা কুলদীপ লাহোর, বাসিন্দা হনুমানগড়। তিনি মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে পিজি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হিসেবে প্রশিক্ষণরত ছিলেন এবং নিয়মিত ডিউটিতে নিযুক্ত ছিলেন।

তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি অপারেশন থিয়েটারে তার নির্ধারিত ডিউটিতে যোগ দেন। সোমবার সকাল প্রায় ৮টা পর্যন্ত তাকে খুঁজে না পাওয়ায় সহকর্মীরা খোঁজ শুরু করেন এবং অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর দ্রুত হাসপাতাল প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়।

হাসপাতাল প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করে এবং চিকিৎসা পরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করে। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কোনও সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে ঘটনাটি সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শিবদাসপুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এএসআই ঘনশ্যাম জানিয়েছেন, পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য মেডিক্যাল বোর্ডের মাধ্যমে পোস্টমর্টেমের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে শরীরে আঘাত বা বাহ্যিক সহিংসতার স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। পুলিশ এটিও খতিয়ে দেখছে যে ডিউটির সময় চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থা হঠাৎ অবনতি ঘটেছিল কি না অথবা অন্য কোনও কারণ ছিল কি না।

এই ঘটনার পর হাসপাতালের চিকিৎসক ও মেডিক্যাল স্টাফদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ডা. সুনীল তার কাজের প্রতি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ছিলেন এবং দায়িত্ব পালনে সবসময় গুরুত্ব দিতেন।

হাসপাতাল প্রশাসন ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ডিউটির সময় কোনও ধরনের অবহেলা বা মেডিক্যাল জরুরি পরিস্থিতি ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসকের উপর অতিরিক্ত কর্মভার বা অন্য কোনও শারীরিক চাপ ছিল কি না, তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোস্টমর্টেম রিপোর্টের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে—এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, মেডিক্যাল জরুরি অবস্থা, নাকি অন্য কোনও কারণ, তা রিপোর্টেই নির্ধারিত হবে। তদন্তকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনা চিকিৎসা শিক্ষা এবং পিজি চিকিৎসকদের উপর কর্মভার সম্পর্কিত প্রশ্নও সামনে এনেছে। দীর্ঘ সময়ের ডিউটি এবং চাপপূর্ণ কর্মপরিবেশ চিকিৎসকদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। ঘটনাটি ব্যবস্থার সম্ভাব্য উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাও নির্দেশ করছে।

 

Leave a comment