ছারপোকা দূর করার উপায়: বাড়িতে ছারপোকার সমস্যা যে শুধু অস্বস্তিই বাড়ায় তা নয়, ঘুমের ব্যাঘাত থেকে শুরু করে ত্বকে দাগ-চুলকানি পর্যন্ত নানা জ্বালাতন তৈরি করে। কোন উপায়ে এই ছারপোকা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়—তা জানতে চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে ঘর পরিষ্কার এবং কিছু সহজ গৃহস্থালি উপায় প্রয়োগ করলে মাত্র ৫ মিনিটেই ছারপোকা অনেকটাই দূর করা সম্ভব। শহর ও শহরতলিতে সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ বাড়ায় এই বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ছারপোকার উপদ্রব কেন বাড়ছে?
শহরের আর্দ্র পরিবেশ, পুরনো বাড়ি, বিছানা–তোষক না বদলানো এবং পরিষ্কার কম করার ফলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ছারপোকা। বিশেষত বর্ষা ও শীত মৌসুমে এর বৃদ্ধি আরও বেশি দেখা যায়। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, বিছানায় খাবারের কণা, ধুলো এবং আর্দ্রতা থাকলে এরা দ্রুত বাসা বাঁধে।ছারপোকা সাধারণত মানুষের শরীরের উষ্ণতা টের পেয়ে সক্রিয় হয়। তাই রাতে আলো নিভলেই তাদের চলাচল বেশি দেখা যায়। বাড়ির বিছানা, সোফা, কাঠের আসবাব, দেওয়ালের সূক্ষ্ম ফাটল—সবই ছারপোকার লুকোনোর আদর্শ জায়গা।
স্যাভলন বা ডেটল স্প্রে—সবচেয়ে দ্রুত কার্যকর
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে সহজ ও তাত্ক্ষণিক সমাধান হলো স্যাভলন বা ডেটল মিশিয়ে স্প্রে তৈরি করা।
১ লিটার জলে ২ ঢাকনা স্যাভলন বা ডেটল মিশিয়ে নিলে তা শক্তিশালী অ্যান্টিসেপটিক স্প্রে হিসেবে কাজ করে।
এটি বিছানা, বালিশ, কুশন, সোফার কোণ ও কাঠের ফাটলে ভালোভাবে ছিটিয়ে দিলে ছারপোকা তৎক্ষণাৎ দূরে সরে যায়। কয়েকদিন নিয়মিত ব্যবহার করলে স্থায়ীভাবে উপদ্রব কমতে শুরু করে।

শশার রস—নিরাপদ ও ঘরোয়া প্রতিরোধক
বাড়ির বাচ্চা বা পোষ্যের কারণে কেমিক্যাল ব্যবহার করতে না চাইলে শশার রস খুবই নিরাপদ বিকল্প।শশার রসে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড ও গন্ধ ছারপোকা সহ্য করতে পারে না। কুঁচি করা শশা বিছানার কোণে বা কাঠের ফাঁকে রাখলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পোকা পালাতে শুরু করে। তবে নিয়মিত পরিষ্কার না করলে উপদ্রব আবার বাড়তে পারে।
ন্যাপথলিন—দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা
ন্যাপথলিনের গন্ধ ছারপোকা, পোকার লার্ভা ও অন্যান্য ছোট পোকামাকড়ের প্রজনন রোধ করে।বিছানার চার কোণে, আলমারিতে, তোষকের নীচে ন্যাপথলিনের বল রাখলে তা দীর্ঘসময়ের জন্য প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।তবে খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার না করে সঠিকভাবে বায়ুচলাচল থাকা জরুরি।

ঘর পরিষ্কারই আসল সমাধান
গৃহস্থালি সমাধান কাজ করলেও ছারপোকার মূল শত্রু হলো নিয়মিত পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা।
বিছানার চাদর গরম জলে ধোয়া
তোষক রোদে শুকানো
সোফার কভার ওয়াশ করা
রুম ভ্যাকুয়াম করা
এগুলি করলে ছারপোকার প্রজনন অনেকটাই কমে যায়।

বিছানা, বালিশ, তোষকের কোণ ঘিরে ছারপোকার উপদ্রব বেড়েই চলেছে। বাড়িতে নিয়মিত ব্যবহার্য কিছু জিনিস—স্যাভলন স্প্রে, ডেটল মিশ্রণ, শশার রস ও ন্যাপথলিন—ব্যবহার করলে মাত্র কয়েক মিনিটেই ছারপোকা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় বলে বিশেষজ্ঞদের মত।













