ফল হিসেবে পেয়ারার জনপ্রিয়তা নতুন নয়। তবে জানেন কি, নিয়মিত পেয়ারা খেলে শরীর পায় একাধিক স্বাস্থ্যগত উপকারিতা? পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈনের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পেয়ারা যোগ করলে তা ধীরে ধীরে শরীরের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করতে শুরু করে।
হৃদ্স্বাস্থ্যের রক্ষাকবচ পেয়ারা
পুষ্টিবিদদের মতে, পেয়ারায় থাকা শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান লাইকোপিন হৃদ্যন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
প্রদাহ কমাতে কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান
পেয়ারার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হল এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ক্ষমতা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, নিয়মিত পেয়ারা খেলে শরীরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের সময় পেটব্যথা উপশমেও পেয়ারা সহায়ক ভূমিকা নেয়।
হজমশক্তি বাড়াতে পেয়ারার জুড়ি নেই
পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার ও ভিটামিন সি থাকায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পেয়ারা বিশেষভাবে উপকারী। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
খোসাতেও লুকিয়ে আছে পুষ্টিগুণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেয়ারার খোসায়ও রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ। তবে যাঁদের ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খোসা ছাড়িয়ে পেয়ারা খাওয়াই ভালো।
পেয়ারা শুধুই একটি সুস্বাদু মৌসুমি ফল নয়, বরং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখলে এটি শরীরের জন্য ওষুধের মতো কাজ করে। পুষ্টিবিদদের মতে, পেয়ারায় থাকা অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার ও ভিটামিন হৃদ্স্বাস্থ্য, হজমশক্তি এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।













