তৃণমূলের মৃত্যুঘণ্টা বাজানোর হুঙ্কার এসআইআর নিয়ে শমিক ভট্টাচার্যের কড়া বার্তা

তৃণমূলের মৃত্যুঘণ্টা বাজানোর হুঙ্কার এসআইআর নিয়ে শমিক ভট্টাচার্যের কড়া বার্তা

রাজধানীতে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা

রবিবার রাজধানীতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক। এসআইআর বা বিশেষ এবং নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে। এর পরপরই তৃণমূল কংগ্রেস পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় কীভাবে বাংলায় এসআইআর আটকানো সম্ভব।

বিজেপির পাল্টা সওয়াল, সামনে এল শমিক ভট্টাচার্য

এই প্রেক্ষিতে মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “এটা সারা দেশেই হবে, প্রক্রিয়াটা চলবেই।” তিনি আরও বলেন, যদি কেউ এর মধ্যে তৃণমূলের ‘মৃত্যুঘণ্টা’ শুনতে পান, তবে তা তাঁদের সমস্যা। তাঁর দাবি, যত বাধাই আসুক, সব গুঁড়িয়ে দিয়ে বাংলায় এসআইআর কার্যকর করা হবে।

রাহুল গান্ধির মন্তব্যকে কড়া আক্রমণ

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন, এসআইআর আসলে ভোট চুরির পরিকল্পনা। সেই মন্তব্যকে কড়া ভাষায় খণ্ডন করেন শমিক। তাঁর বক্তব্য, “রাহুল গান্ধির কথা কংগ্রেসের নেতারাই গুরুত্ব দেন না। বাংলার মানুষ অচেতন নয়। মানুষই সব জবাব দেবে।”

তৃণমূলের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

শমিক ভট্টাচার্য এদিন অভিযোগ তোলেন, তৃণমূল নাকি বাংলাদেশি মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় রাখতে চাইছে। তাঁর দাবি, বিজেপি নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন চাইছে। তাই এসআইআর কার্যকর করাই একমাত্র পথ।

ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাজ্য রাজনীতি

রাজধানীর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অপর দুই কমিশনার— সুখবির সিং সাঁধু ও বিবেক জোশী। তাঁরা জানান, তিন জন মিলেই সিদ্ধান্ত নেবেন কবে থেকে বাংলায় এসআইআর শুরু হবে। তবে তারিখ এখনই ঘোষণা করা হয়নি। এতে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়ছে।

মোদির আসন্ন বঙ্গ সফরের ইঙ্গিত

শুধু এসআইআর নয়, শমিক ভট্টাচার্য এদিন প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গ সফর নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, আগামী ২২ আগস্ট যশোর রোডে মেট্রো রেলের ফ্ল্যাগ অফ করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর দমদমে অনুষ্ঠিত হবে পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা, যেখানে যোগ দেবেন তিনিও।

রেল প্রকল্পে রাজ্যের বাধার অভিযোগ

রাজ্যে রেল সংক্রান্ত অন্তত ৪৩টি প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর কথায়, রাজ্য সরকার জমি না দেওয়ার কারণে এই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি থমকে আছে। বিশেষ করে সেক্টর-৫ থেকে চিংড়িঘাটা পর্যন্ত জমি জটের কারণে কলকাতার কানেকটিভিটি বিপর্যস্ত।

কেন্দ্র-রাজ্যের দ্বন্দ্বে ভোগান্তি জনগণের

শমিকের অভিযোগ, “মোদিজি বাংলার মানুষের প্রতি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা পূরণ করছেন। কিন্তু রাজ্য সরকারের কেন্দ্রীয় বিরোধিতায় মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। রাজ্য প্রকল্পের নাম বদল করছে, জমি না দিয়ে কাজ আটকে রাখছে। এতে সীমান্তের নিরাপত্তার কাজও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।”

শমিক–সুজিত বসুর আলোচনার ইঙ্গিত

শমিক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই জমি সমস্যার বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যেই রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে পরিস্থিতি এখনও জটিল। তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষের জন্য যে উন্নয়ন দরকার, তা রাজনীতির জন্য আটকে রাখা উচিত নয়।

তৃণমূল বনাম বিজেপি—নতুন সংঘাতের মঞ্চ

এসআইআর প্রসঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির এই দ্বন্দ্ব স্পষ্ট করে দিল, ভোটার তালিকা নিয়েও এবার বড় সংঘাত তৈরি হতে চলেছে। বিজেপি যেখানে দাবি করছে এসআইআর বাংলার স্বচ্ছ নির্বাচনের পথ, তৃণমূল সেখানে বলছে এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে নতুন ষড়যন্ত্র।

মানুষের চোখ এখন কমিশনের দিকে

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, এসআইআরকে ঘিরে রাজ্যের রাজনীতি এখন আরও চড়চড় করছে। বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের হুঁশিয়ারি তৃণমূলের জন্য বড় বার্তা। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে কবে থেকে বাংলায় শুরু হবে এই প্রক্রিয়া। আপাতত রাজনৈতিক মহল অপেক্ষায় সেই ঘোষণার।

Leave a comment