গরম পড়লেই অনেকেই শরীরে তেল মাখা বন্ধ করে দেন। কারণ ঘামের কারণে ত্বক আরও চটচটে হয়ে উঠবে বলে মনে করা হয়। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মকালেও ত্বকের যত্নে বডি অয়েল অপরিহার্য। বিশেষ করে সারাদিন এসির সামনে থাকলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক ও অনুজ্জ্বল হয়ে পড়ে।

কেন গরমেও দরকার বডি অয়েল
গ্রীষ্মে সারাদিন ঘাম, ধুলো ও দূষণের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। দিনের শেষে স্নান করার পর অনেকেই লক্ষ্য করেন ত্বক ধীরে ধীরে রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা এড়াতে নিয়মিত বডি অয়েল ব্যবহার করলে ত্বকের ভিতরে আর্দ্রতা ‘লক’ হয়ে থাকে এবং ত্বক দীর্ঘ সময় মসৃণ থাকে।
বাদাম তেল: উজ্জ্বলতা ফেরানোর সহজ উপায়
কাঠবাদামের তেল পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে থাকে ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, রেটিনল এবং ওমেগা–৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই তেল ত্বকের গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। তবে এটি কিছুটা ঘন হওয়ায় অনেকেই নারকেল বা জোজোবা তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করেন।
চন্দন তেল: প্রশান্তি ও সুরক্ষা একসঙ্গে
চন্দনকাঠের তেল সাধারণত অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়। এতে থাকা প্রাকৃতিক সুগন্ধ স্নায়ুকে শান্ত রাখে। পাশাপাশি এতে অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ও প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে, যা ত্বকের জ্বালাভাব কমাতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে এর উপকারিতা আরও বাড়ে।

নারকেল তেল: গ্রীষ্মের সেরা সঙ্গী
গরমের দিনে সবচেয়ে জনপ্রিয় বডি অয়েল হল নারকেল তেল। এতে ভিটামিন ই ও বিভিন্ন ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা ত্বককে দ্রুত মসৃণ করে। এটি তুলনামূলক হালকা হওয়ায় গরমেও ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করে না। স্নানের আগে শরীরে নারকেল তেল মালিশ করলে ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল থাকে।
এসির সামনে থাকলে বাড়ে ত্বকের সমস্যা
বর্তমানে অনেকেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটান এসির ঘরে। দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকলে ত্বক ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে যায় এবং অনুজ্জ্বলতা দেখা দেয়। নিয়মিত অয়েল মাসাজ করলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, ক্লান্তি কমে এবং ত্বক ভিতর থেকে সতেজ দেখায়।

গরমকালে ঘাম ও ধুলোয় ত্বক দ্রুত রুক্ষ হয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শীতকালেই নয়—গ্রীষ্মকালেও ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বডি অয়েল অত্যন্ত জরুরি। সঠিক তেল বেছে নিলে ত্বক কোমল থাকে, রক্ত সঞ্চালনও ভালো হয়।













