পাহাড়ে হিমবাহ হ্রদ ফেটে মুহূর্তের মধ্যে নেমে এল বিপুল জলরাশি! ভুটানের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব এবার পড়তে পারে উত্তরবঙ্গেও। শিনতাফু হ্রদ থেকে বেরিয়ে আসা প্রবল জলস্রোত ইতিমধ্যেই একাধিক নদীপথ ধরে ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে। সংকোশ নদীতে জলের চাপ বাড়ার আশঙ্কায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার নদী সংলগ্ন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
![]()
ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ বিপর্যয়
ভুটানের গাসা জেলার লায়া অঞ্চলের লুঙ্গোতে ওয়াকিলা পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদ আচমকাই ফেটে যায়। এর জেরে পাহাড়ি এলাকা দিয়ে প্রবল বেগে নেমে আসতে শুরু করে বিপুল পরিমাণ জল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হ্রদ থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল বেরিয়ে এসেছে।শিনতাফু হ্রদকে আগে থেকেই ভুটানের অন্যতম বিপজ্জনক ১৭টি হিমবাহ হ্রদের মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনায় হিমবাহের জল জমে থাকা হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল জলরাশি আচমকা নেমে আসে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে বলা হয় GLOF বা Glacial Lake Outburst Flood।
ভেসে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বড় অংশ
হড়পা বানের তীব্র জলের তোড়ে ভুটানের লায়া অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জংখাগ সড়কের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। ভুটানের পাশাপাশি এই বিপর্যয়ের প্রভাব ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কোন নদীপথ ধরে ভারতে ঢুকছে জল?
এই বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হল জলরাশির প্রবাহপথ। শিনতাফু হ্রদ থেকে বেরিয়ে আসা জল প্রথমে মো চু নদীতে প্রবাহিত হয়েছে। সেখান থেকে ভারত-ভুটান যৌথ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকার পুনাসাংচু নদীতে গিয়ে মিশেছে।পরবর্তী সময়ে এই জলধারা ভারতের সংকোশ নদীতে প্রবেশ করে। ফলে সংকোশ নদীর জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলে। বিশেষ করে নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
![]()
আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে সতর্কতা
ভুটানের হিমবাহ হ্রদ ফাটার ঘটনার জেরে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রবল জলস্রোতের কারণে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।একই সঙ্গে নিম্ন অসমের ধুবড়ি জেলাতেও হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নদীর জলস্তর ও প্রবাহের গতিবিধির উপর বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষকে কী কী সতর্কতা মানতে হবে?
এই পরিস্থিতিতে নদীর আশপাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি।
- নদীর জল দেখতে বা ছবি তুলতে নদীর ধারে ভিড় করবেন না।
- প্রশাসনের নির্দেশ ছাড়া নদী পারাপার করবেন না।
- নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে দেখলে নিরাপদ উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিন।
- স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের নির্দেশ মেনে চলুন।
- জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতের কাছে রাখুন।
![]()
ভুটানের গাসা জেলার লায়া অঞ্চলে শিনতাফু হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদ থেকে প্রায় ৭৪ লক্ষ ঘনমিটার জল প্রবল গতিতে নেমে আসায় বিপর্যস্ত ভুটানের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই বিপুল জলরাশি মো চু ও পুনাসাংচু নদী হয়ে সংকোশ নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে একাধিক এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।











