চিকিৎসার জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নতুন নয়। সেই পরিস্থিতিতে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের নির্ধারিত অ্যাম্বুল্যান্স রেট চার্ট প্রকাশ্যে আসায় অনেকটাই স্বস্তি মিলেছে রোগীর পরিবারগুলির। এবার কোন গন্তব্যে যেতে কত টাকা লাগবে, তা আগেই জেনে নেওয়া সম্ভব। যদিও তালিকার কিছু অঙ্ক নিয়ে ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।
প্রকাশ্যে হাসপাতালের নির্ধারিত রেট চার্ট
সম্প্রতি বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স ও স্মল কার স্ট্যান্ডের একটি ভাড়া তালিকা সামনে এসেছে। সেখানে বিভিন্ন দূরত্ব অনুযায়ী নন-এসি, অক্সিজেন এবং এসি পরিষেবার আলাদা খরচ উল্লেখ করা হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে খবর, রোগী ও তাঁদের পরিবারের সুবিধার্থেই এই তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। এর ফলে ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাঁকুড়া শহরে যেতে কত ভাড়া?
রেট চার্ট অনুযায়ী, বিষ্ণুপুর থেকে বাঁকুড়া শহরে নন-এসি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া ধার্য হয়েছে ১৫০০ টাকা।
এর সঙ্গে—
অক্সিজেন পরিষেবা নিলে অতিরিক্ত ২০০ টাকা
এসি পরিষেবার জন্য আরও ২০০ টাকা
অর্থাৎ সব পরিষেবা মিলিয়ে মোট খরচ দাঁড়াতে পারে ১৯০০ টাকার কাছাকাছি।
ওন্দা-জয়পুরের মতো কাছাকাছি রুটে তুলনামূলক কম খরচ
চার্ট অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের আশপাশের এলাকাগুলির জন্য ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম রাখা হয়েছে।
ওন্দা ও জয়পুরের মতো রুটে নন-এসি ভাড়া ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে
লোকাল এলাকায় নন-এসি পরিষেবার ভাড়া মাত্র ৪০০ টাকা
অক্সিজেন ও এসির জন্য অতিরিক্ত ১০০ টাকা করে ধার্য করা হয়েছে
স্থানীয়দের একাংশের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে এই ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।
কলকাতা, দুর্গাপুর, মেদিনীপুরে যেতে কত খরচ?
দূরপাল্লার রুটগুলির ক্ষেত্রে খরচ অনেকটাই বেশি। তালিকা অনুযায়ী—
গন্তব্য নন-এসি ভাড়া অতিরিক্ত পরিষেবা সহ সম্ভাব্য খরচ
দুর্গাপুর ৩০০০ টাকা প্রায় ৪০০০ টাকা
বর্ধমান ৩০০০ টাকা প্রায় ৪০০০ টাকা
মেদিনীপুর ৩০০০ টাকা প্রায় ৪০০০ টাকা
কলকাতা ৬০০০ টাকা প্রায় ৭০০০ টাকা
অক্সিজেন ও এসি পরিষেবা যোগ করলে মোট ব্যয় দ্রুত বেড়ে যেতে পারে বলেই জানাচ্ছেন অনেকে।
খড়্গপুরের ভাড়া ঘিরে শুরু বিতর্ক
সবচেয়ে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে খড়্গপুর রুটের ভাড়া নিয়ে। চার্টে নন-এসি অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া ৩২,০০০ টাকা লেখা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এই অঙ্ক দেখে অনেকেই বিস্মিত। কারণ অন্যান্য দূরত্বের তুলনায় এই ভাড়া অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের একাংশের অনুমান, এটি টাইপিং ভুলও হতে পারে।
এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যার দাবি উঠেছে।
স্বচ্ছতা বাড়বে বলেই মত সাধারণ মানুষের
অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই নির্দিষ্ট রেট চার্ট প্রকাশ্যে আসায় রোগীর পরিবার আগেভাগেই সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন।তবে তালিকার কিছু অসঙ্গতি দ্রুত সংশোধন করে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা।
বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের অ্যাম্বুল্যান্স ও স্মল কার স্ট্যান্ডের নতুন ভাড়া তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বাঁকুড়া, দুর্গাপুর, বর্ধমান, মেদিনীপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত বিভিন্ন রুটের নির্দিষ্ট ভাড়া জানানো হয়েছে। তবে খড়্গপুর রুটের ভাড়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।











