শূন্য থেকে ২০০ পার! বাংলায় গেরুয়া উত্থানের নেপথ্যে ১৫ বছরের কৌশল

১৫ বছরের পরিকল্পনায় বাংলায় বিজেপির উত্থান। ২০০-র বেশি আসন জয়ের পেছনে কী কৌশল কাজ করেছে? জানুন বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

বাংলার রাজনীতিতে এক সময় কার্যত অদৃশ্য ছিল বিজেপি। কিন্তু ধাপে ধাপে সংগঠন গড়ে তোলা, রাজনৈতিক কৌশলের বদল এবং সময়ের অপেক্ষায় থেকে অবশেষে ২০২৬-এ বড় সাফল্য পেল গেরুয়া শিবির। কী সেই অঙ্ক, যার জোরে ২০০ পার?

শূন্য থেকে ২০০ পার! বাংলায় গেরুয়া উত্থানের নেপথ্যে ১৫ বছরের কৌশল
শূন্য থেকে শুরু, দীর্ঘ লড়াইয়ের পথচলা

২০০০-এর দশকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ-এ বিজেপির উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। ২০০১ সালে মাত্র ২টি আসন, ২০০৬-এ শূন্য। লোকসভাতেও তেমন সাফল্য ছিল না। সেই সময় রাজ্যের রাজনীতি মূলত বামফ্রন্ট ও তৃণমূল কংগ্রেস-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

২০১৪: জাতীয় উত্থানে বাংলায় দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি

নরেন্দ্র মোদী-র উত্থানের পর ২০১৪ সালে বাংলায় বিজেপির ভোটশেয়ার হঠাৎই বেড়ে যায়। এটি ছিল দলের জন্য প্রথম বড় টার্নিং পয়েন্ট, যা ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করে।

দিলীপ ঘোষ পর্বে সংগঠন মজবুত

দিলীপ ঘোষ-এর নেতৃত্বে বিজেপি রাস্তায় আন্দোলন ও সংগঠন বিস্তারে জোর দেয়। ২০১৬-তে মাত্র ৩টি আসন পেলেও উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে দল শক্ত ভিত গড়ে তোলে।

শূন্য থেকে ২০০ পার! বাংলায় গেরুয়া উত্থানের নেপথ্যে ১৫ বছরের কৌশল
২০১৯ লোকসভা: রাজনীতির সমীকরণ বদল

২০১৯ সালে বিজেপি বাংলায় ১৮টি লোকসভা আসন জিতে এবং ভোটশেয়ার ৪০% ছাড়ায়। এই ফল রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে এবং দলকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

২০২১: হারেও সুযোগ, বিরোধী দল হিসেবে উত্থান

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতায় না এলেও বিজেপি ৭৭টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠে। এই সময়েই দলের দুর্বলতা ও শক্তির জায়গা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

স্থানীয় নেতৃত্বের উত্থান, বদল কৌশলে

শুভেন্দু অধিকারী-র উত্থান এবং নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে পরাজিত করা ছিল বড় রাজনৈতিক বার্তা। পাশাপাশি স্থানীয় বাঙালি মুখকে সামনে এনে দল নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়।

শূন্য থেকে ২০০ পার! বাংলায় গেরুয়া উত্থানের নেপথ্যে ১৫ বছরের কৌশল
কেন্দ্রীয় কৌশল ও বুথ ম্যানেজমেন্ট

অমিত শাহ-এর নেতৃত্বে সংগঠন ও বুথস্তরের কৌশল আরও শক্তিশালী হয়। ‘পন্না প্রধান’ মডেল, বুথভিত্তিক কর্মী গঠন এবং নির্দিষ্ট আসনে ফোকাস—এই সবই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি ও ডিজিটাল প্রচার

দুর্নীতি, বেকারত্ব, নিয়োগ কেলেঙ্কারি—এই ইস্যুগুলিকে সামনে আনা হয়। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্রমণাত্মক প্রচার তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করে। কল্যাণ প্রকল্প বজায় রেখে উন্নয়নের বার্তা দেওয়া হয়।

শূন্য থেকে ২০০ পার! বাংলায় গেরুয়া উত্থানের নেপথ্যে ১৫ বছরের কৌশল
একসময় প্রান্তিক শক্তি—আজ ক্ষমতার শীর্ষে ভারতীয় জনতা পার্টি। দীর্ঘ ১৫ বছরের সংগঠন গঠন, বুথস্তরের পরিকল্পনা, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কৌশল ও স্থানীয় মুখের উত্থান—সব মিলিয়ে বাংলায় ২০০-র গণ্ডি পেরোল গেরুয়া শিবির।

Leave a comment