গরমের ছুটিতে একটু শান্তি খুঁজছেন? দূরে কোথাও নয়, কলকাতার কাছেই রয়েছে এমন এক জায়গা, যেখানে নদীর হাওয়া, সবুজের ছোঁয়া আর ছোট ছোট জাহাজের আনাগোনা আপনাকে দেবে অন্যরকম অনুভূতি। সেই জায়গার নাম গেঁওখালি—যা এখন একদিনের ট্রিপের জন্য আদর্শ গন্তব্য হয়ে উঠছে।
ত্রিবেণী সঙ্গমে প্রকৃতির অনন্য রূপ
গেঁওখালি-র প্রধান আকর্ষণ হল তিন নদীর মিলনস্থল। রূপনারায়ণ নদী, হলদী নদী ও হুগলি নদী-র বিশাল জলরাশি একসঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব দৃশ্য। জোয়ারের সময় নদীর উত্তাল রূপ আর ভাটার সময় শান্ত জল—দুটোই দেখার মতো।
সন্ধ্যায় নদীর বুকে অন্যরকম মায়া
বিকেল গড়াতেই নদীর ধারে বসে দেখা যায় সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য। ছোট ছোট মালবাহী জাহাজের আসা-যাওয়া আর নদীর হাওয়ায় মন হয়ে ওঠে প্রশান্ত। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে এই জায়গার সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়।
কাছেই ইতিহাসের টান, ঘুরে দেখুন আশপাশ
গেঁওখালির কাছেই রয়েছে পর্তুগিজ পাড়া ও প্রাচীন চার্চ। একটু দূরে মহিষাদল-এ ঘুরে দেখতে পারেন রাজবাড়ি, গোপাল জিউর মন্দির, আম্রকুঞ্জ। এছাড়া গান্ধি কুটির ও সতীশ সামন্তের স্মৃতিবিজড়িত স্থানও রয়েছে কাছাকাছি।
থাকার ব্যবস্থা ও খরচ
এখানে হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ-র তত্ত্বাবধানে ‘ত্রিবেণী সঙ্গম’ নামে গেস্ট হাউস রয়েছে। এসি রুমের ভাড়া প্রায় ১৫০০–২৫০০ টাকার মধ্যে। অনলাইনে বুকিংয়ের সুবিধাও রয়েছে।
কীভাবে যাবেন সহজে?
কলকাতা থেকে প্রায় ১১৫ কিমি দূরে এই গন্তব্যে ট্রেন, বাস বা জলপথে সহজেই পৌঁছানো যায়। হাওড়া-হলদিয়া লোকালে সতীশ সামন্ত রেলওয়ে স্টেশন-এ নেমে টোটো বা বাসে পৌঁছে যেতে পারেন। এছাড়া মেচেদা বা তমলুক থেকেও সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
ভিড় এড়িয়ে শান্তিতে একদিন কাটাতে চাইলে ভরসা রাখুন গেঁওখালি-তে। রূপনারায়ণ নদী, হলদী নদী ও হুগলি নদী-র ত্রিবেণী সঙ্গমে তৈরি এই গন্তব্যে মিলবে প্রকৃতি, ইতিহাস ও প্রশান্তির অনন্য মেলবন্ধন।













