১৮-৪০ বছরের বেকারদের মাসে ২৫,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি? যুবসাথীকে চ্যালেঞ্জে বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ চমক!

১৮-৪০ বছরের বেকারদের মাসে ২৫,০০০ টাকার প্রতিশ্রুতি? যুবসাথীকে চ্যালেঞ্জে বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ চমক!

বঙ্গ রাজনীতিতে ভোটের কাউন্টডাউন শুরু। একদিকে শাসক শিবিরের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, অন্যদিকে বিরোধীদের পাল্টা প্রতিশ্রুতি—২০২৬-এর লড়াই যে যুব ভোটকে ঘিরেই আবর্তিত হবে, তা স্পষ্ট। এই প্রেক্ষাপটে বেকার যুবকদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

যুব ভোটে ফোকাস, কৌশলে গেরুয়া শিবির

রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে যুব সম্প্রদায় এখন অন্যতম নির্ণায়ক শক্তি। তাই নির্বাচনের আগে তাদের মন জয়ের লড়াই তুঙ্গে। দলীয় সূত্রের দাবি, আসন্ন ‘সংকল্প পত্র’-এ কর্মসংস্থানমুখী আর্থিক সহায়তার বিশেষ প্যাকেজ রাখতে পারে বিজেপি। শুধু ভাতা নয়, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

‘যুবসাথী’র পাল্টা প্রস্তাব? রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে

সম্প্রতি বাজেটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের তরফে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকারদের মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতার ঘোষণা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির সম্ভাব্য ২৫ হাজার টাকার প্রতিশ্রুতি সেই প্রকল্পের সরাসরি পাল্টা বার্তা। যদিও সরকারি ভাবে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি, তবে অঙ্কের দিক থেকে এটি নিঃসন্দেহে বড় প্রতিশ্রুতি।

কারা পাবেন ২৫ হাজার? শর্তসাপেক্ষ ‘উৎসাহ ভাতা’

সূত্রের খবর, ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি নিবন্ধিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য এই ভাতা প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এটি নিছক ভাতা নয়—দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক থাকতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণ না করলে বা মাঝপথে ছেড়ে দিলে ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অর্থাৎ, আর্থিক সহায়তার সঙ্গে কর্মসংস্থানযোগ্য দক্ষতা গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।

নেতৃত্বের ভূমিকায় কারা?

দলীয় অন্দরমহলের খবর, রাজ্য নেতৃত্বের শীর্ষস্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। যদিও প্রকাশ্যে সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, “ভাতা সর্বস্ব রাজনীতি আমরা চাই না।” ফলে স্পষ্ট, শুধুমাত্র নগদ সহায়তা নয়—দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের রূপরেখাই তুলে ধরতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

রাজনৈতিক প্রভাব কতটা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা স্পষ্টভাবে সামনে আনা হয়, তবে যুব ভোটব্যাঙ্কে তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আর্থিক সংস্থান, বাস্তবায়ন কাঠামো ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা—এই তিন প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে প্রতিশ্রুতির গ্রহণযোগ্যতা।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচনী ইস্তেহারে বড় ঘোষণা আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি। ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি বেকার যুবকদের জন্য মাসে ২৫ হাজার টাকা ‘উৎসাহ ভাতা’ দেওয়ার পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে দলীয় সূত্রে। শর্তসাপেক্ষ এই প্রস্তাবকে শাসক শিবিরের ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের পাল্টা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a comment