মূত্রাশয় ক্যানসার এখন পশ্চিমবঙ্গে ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য উদ্বেগের বিষয়। কলকাতার Fortis Hospital Anandapur-এর অনকো-ইউরোলজি বিভাগের ডিরেক্টর Dr. Srinivas Narayan জানিয়েছেন, এই ক্যানসারে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই ধূমপায়ী। তবে ধূমপান ছাড়াও আরও একাধিক কারণ রয়েছে, যা অনেকেই জানেন না।
ধূমপানই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূত্রাশয় ক্যানসারের প্রধান কারণ তামাক সেবন। ধূমপান বা ধোঁয়াবিহীন তামাক—উভয়ই ঝুঁকি বাড়ায়। তামাকের ক্ষতিকারক রাসায়নিক কিডনির মাধ্যমে ফিল্টার হয়ে মূত্রাশয়ে জমা হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কোষের ক্ষতি করে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আক্রান্তদের বড় অংশই দীর্ঘদিনের ধূমপায়ী।
শিল্পক্ষেত্রের রাসায়নিকও বিপজ্জনক
রঞ্জক, রবার, চামড়া ও রাসায়নিক শিল্পে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিন শিল্প রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে মূত্রাশয়ের কোষে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা প্রোটোকল মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
কোন লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন?
মূত্রাশয় ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ হল প্রস্রাবে ব্যথাহীন রক্ত (হেমাটুরিয়া)। এছাড়া—
ঘন ঘন প্রস্রাব
প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
পেলভিকে ব্যথা
বারবার ইউরিন ইনফেকশন
অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন বা নিজে ওষুধ খান। এতে রোগ নির্ণয়ে দেরি হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একবারও প্রস্রাবে রক্ত গেলে অবিলম্বে পরীক্ষা করান, প্রয়োজনে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (USG) করানো উচিত।
আরও কী কী ঝুঁকির কারণ?
দীর্ঘস্থায়ী মূত্রাশয়ের সংক্রমণ
দীর্ঘদিন ক্যাথিটার ব্যবহার
দূষিত পানীয় জল
আর্সেনিকের সংস্পর্শ
কিছু অঞ্চলে পানীয় জলে আর্সেনিকের মাত্রা বেশি থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?
প্রতিরোধের মূল উপায় জীবনধারা পরিবর্তন।
সম্পূর্ণভাবে তামাক ত্যাগ করা
পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ জল পান
শিল্পক্ষেত্রে সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার
৫০ বছরের বেশি হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বিশেষ করে ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সামান্য উপসর্গও গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
পশ্চিমবঙ্গে মূত্রাশয় ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ছে, বিশেষত ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীরই ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে। প্রস্রাবে রক্ত যাওয়া সবচেয়ে বড় সতর্ক সংকেত। সময়মতো পরীক্ষা ও জীবনধারার পরিবর্তনই হতে পারে প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।













