মধেপুরা জেলায় বিহার লোক সেবা কমিশন (BPSC) পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা এক ছাত্রী সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। মৃতার পরিচয় নিধি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি মধেপুরা শহরের একটি লজে থেকে পড়াশোনা করছিলেন। তার কক্ষে মরদেহ পাওয়ার পর প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিধি কিছুদিন ধরে মধেপুরায় থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঘটনার দিন দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষের ভেতর কোনো সাড়া না পাওয়ায় এবং দরজা না খোলায় লজের কর্মীদের সন্দেহ হয়। একাধিকবার ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে নিধিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। প্রাথমিক তদন্তে শরীরে কোনো স্পষ্ট বাহ্যিক আঘাত বা সংঘর্ষের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ কক্ষটি সিল করে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করেছে। কক্ষ থেকে ব্যক্তিগত কিছু সামগ্রী, বই, নোট এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তদন্তের জন্য জব্দ করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক, আকস্মিক অসুস্থতা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে নিধির পরিবারকে জানানো হয় এবং তারা মধেপুরায় পৌঁছেছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, নিধি পড়াশোনার বিষয়ে মনোযোগী ছিলেন এবং সম্প্রতি কোনো সমস্যা বা হুমকির কথা তিনি তাদের জানাননি।
পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত চলছে। লজের মালিক, কর্মী এবং আশপাশের লোকজনের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটির আগে কারও সঙ্গে নিধির সাক্ষাৎ হয়েছিল কি না বা কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না এবং তদন্ত সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হবে।









