অনেক সময়ই মনে হয় যেন আগের মতো আর মাথা কাজ করছে না। সামান্য বিষয়ও মনে রাখতে কষ্ট হয়, কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও কমে আসে। এই পরিস্থিতিকে অনেকেই ‘ব্রেন রট’ বলে উল্লেখ করেন। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই শব্দের আলাদা কোনও রোগ হিসেবে স্বীকৃতি নেই, তবুও আধুনিক জীবনযাত্রা ও ডিজিটাল নির্ভরতার ফলে এই ধরনের মানসিক অবসাদ ও মনোযোগের ঘাটতি ক্রমশ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘ব্রেন রট’ আসলে কী?
‘ব্রেন রট’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ মস্তিষ্কের অবনতি বা পচন। মূলত এটি একটি জনপ্রিয় সামাজিক ধারণা, যা মানুষের চিন্তাশক্তি, মনোযোগ এবং স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার প্রবণতাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যমে সময় কাটানো, অপ্রয়োজনীয় তথ্যের স্রোতে ডুবে থাকা এবং মানসিকভাবে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন এই সমস্যাকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।
লক্ষণগুলো কী কী?
ব্রেন রটের সম্ভাব্য লক্ষণের মধ্যে রয়েছে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং কোনও কাজেই আগের মতো আনন্দ বা উৎসাহ না পাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন এই ধরনের অভ্যাস চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
স্ক্রিন টাইম কমানো জরুরি
স্মার্টফোন, টিভি বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটালে মস্তিষ্কে একধরনের মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়। ফলে মনোযোগের ক্ষমতা কমে যায় এবং চিন্তার ধার ভোঁতা হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের বেশি স্ক্রিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এর বদলে বই পড়া, খেলাধুলো বা অন্য সৃজনশীল কাজে সময় দেওয়া উপকারী।
মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখুন
মস্তিষ্কও শরীরের পেশির মতো—চর্চা না করলে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। তাই নিয়মিত এমন কাজ করা উচিত যা চিন্তাশক্তিকে সক্রিয় রাখে। ধাঁধা সমাধান করা, দাবা খেলা, নতুন ভাষা বা দক্ষতা শেখা কিংবা বই পড়া—এই ধরনের অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
শরীরচর্চা বাড়াতে হবে
নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও রক্তসঞ্চালন বাড়ে। এর ফলে মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছায়, যা স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্ক অনেক বেশি সতেজ থাকে।
খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিন
মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, বাদাম, দানা শস্য, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর ফল রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। এই খাবারগুলো মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি
ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে স্মৃতিশক্তি কমে যায় এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি। ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা টিভি থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘন ঘন ভুলে যাওয়া, মনোযোগের অভাব কিংবা সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা—এই সব লক্ষণ অনেক সময় ‘ব্রেন রট’ নামে পরিচিত এক মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। যদিও এটি কোনও আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা শব্দ নয়, তবুও আধুনিক জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও মানসিক চাপের কারণে এই সমস্যা বাড়ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।













