নয়াদিল্লিতে ভারতের সভাপতিত্বে শুরু হচ্ছে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ভারতের সভাপতিত্বে ১৪ ও ১৫ মে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠক শুরু হচ্ছে। বৈঠকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সংস্কার, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার থেকে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী S. Jaishankar।

বৈঠকে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক এবং প্রতিনিধিদল অংশ নেবেন। সম্মেলনে বৈশ্বিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রিকস বিশ্বের প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির একটি জোট, যার সদস্য Brazil, Russia, India, China এবং South Africa। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এই গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রিকস দেশগুলোর লক্ষ্য বৈশ্বিক দক্ষিণের কণ্ঠস্বরকে শক্তিশালী করা এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা। চলতি বছরে ভারত ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় নয়াদিল্লিতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

পশ্চিম এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউক্রেন সংঘাত, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বৈশ্বিক বাণিজ্যসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে সদস্য দেশগুলো বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মতামত বিনিময় করবে এবং যৌথ সহযোগিতা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করবে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শাসন কাঠামোর সংস্কার নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

নয়াদিল্লিতে ভারতের সভাপতিত্বে শুরু হচ্ছে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিত বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা, বৈশ্বিক দক্ষিণের ভূমিকা জোরদার করা এবং আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে সদস্য দেশগুলো যৌথ কৌশল সম্পর্কেও আলোচনা করতে পারে।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া একাধিক বিদেশি প্রতিনিধিদল ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবে। কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বৈঠককে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ব্রিকস মঞ্চের মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের নেতৃত্বের ভূমিকা আরও জোরদার করতে চায়।

সম্প্রতি ভারত ব্রিকস ২০২৬ সভাপতিত্বের জন্য আনুষ্ঠানিক লোগো এবং ওয়েবসাইট চালু করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য “মানবতা সর্বাগ্রে” এবং জনকেন্দ্রিক উন্নয়নের ধারণার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এটি হবে চতুর্থবার, যখন ভারত ব্রিকস-সংক্রান্ত কোনো বড় শীর্ষ আয়োজনের আয়োজক হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে ভারত উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে।

বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হবে। ব্রিকস দেশগুলোর লক্ষ্য পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা।

 

Leave a comment