স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও ভাগাভাগি থাকা খুবই স্বাভাবিক। একই বাড়ি, একই ঘর, এমনকি অনেক সময় একই ব্যবহার্য জিনিসও তাঁরা ব্যবহার করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার কিছু জিনিস কখনওই একসঙ্গে ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এতে একজনের শরীরের জীবাণু খুব সহজেই অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফল হতে পারে ত্বকের সংক্রমণ থেকে শুরু করে গুরুতর ভাইরাল রোগ পর্যন্ত।
চিরুনি শেয়ার করলেই বাড়তে পারে সংক্রমণ
অনেক বাড়িতেই একই চিরুনি ব্যবহার করার অভ্যাস দেখা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস।চিরুনির দাঁতের ফাঁকে মাথার তেল, মৃত ত্বকের কোষ ও ব্যাকটেরিয়া জমে থাকে। একই চিরুনি ব্যবহার করলে উকুন, ছত্রাক বা স্ক্যাল্প ইনফেকশন একজনের থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি দাদ বা মাথার ত্বকে প্রদাহের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
তোয়ালে ভাগ করে ব্যবহার করা বিপজ্জনক
ভেজা তোয়ালে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বৃদ্ধির জন্য আদর্শ জায়গা। তাই একই তোয়ালে ব্যবহার করলে ত্বকের নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।বিশেষ করে কারও যদি ফাঙ্গাল ইনফেকশন, র্যাশ বা চোখের সংক্রমণ থাকে, তাহলে সেই জীবাণু সহজেই অন্যজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই প্রত্যেকের আলাদা তোয়ালে ব্যবহার করা এবং নিয়মিত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি।
একই সাবান ব্যবহারেও থাকতে পারে ঝুঁকি
অনেকেই বাড়িতে একই সাবান ব্যবহার করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সাবানের উপরেও ত্বকের জীবাণু ও মৃত কোষ জমে থাকতে পারে।বিশেষ করে কারও ত্বকে ক্ষত, ব্রণ বা সংক্রমণ থাকলে সেই জীবাণু অন্যের শরীরে পৌঁছে যেতে পারে। তাই বার সাবানের বদলে লিক্যুইড সোপ ব্যবহার তুলনামূলক বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
রোল-অন ডিওডোরেন্ট কখনও শেয়ার নয়
রোল-অন ডিওডোরেন্ট সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। ফলে বগলের ঘাম ও ব্যাকটেরিয়া সহজেই এতে জমা হতে পারে।একই ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালা, র্যাশ বা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই ডিওডোরেন্ট ব্যক্তিগতভাবেই ব্যবহার করা উচিত।
সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক রেজার শেয়ার করা
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেজার ভাগ করে ব্যবহার করা সবচেয়ে বিপজ্জনক অভ্যাসগুলির মধ্যে একটি।শেভ করার সময় ত্বকে অতি ক্ষুদ্র কাটা বা ক্ষত তৈরি হয়। সেই রেজারে রক্তের অণু লেগে থাকতে পারে। ফলে একই রেজার ব্যবহার করলে Hepatitis B বা Hepatitis C-এর মতো গুরুতর ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
কেন ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এত গুরুত্বপূর্ণ?
চিকিৎসকদের মতে, অনেক বড় রোগই শুরু হয় ছোট ছোট অসাবধানতা থেকে। ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিজের ব্যবহার্য জিনিস নিজে ব্যবহার করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখা— এই কয়েকটি অভ্যাসই সুস্থ থাকার বড় চাবিকাঠি হতে পারে।
একই বাড়িতে থাকলেও কিছু ব্যক্তিগত জিনিস কখনও ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা উচিত নয় বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। চিরুনি থেকে রেজার— এমন ৫টি জিনিস শেয়ার করলে সহজেই ছড়াতে পারে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। ছোট ভুল থেকেই হতে পারে বড় স্বাস্থ্য সমস্যা।













