বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতনতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের চাহিদাও। তবে মাছ, মাংস কিংবা দামি প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কেনার সামর্থ্য সবার থাকে না। এমন পরিস্থিতিতে কম খরচে কীভাবে পর্যাপ্ত প্রোটিন পাওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন পুষ্টিবিদ শর্মিষ্ঠা রায় দত্ত। তাঁর মতে, হাতের নাগালের কয়েকটি সাধারণ খাবারই হতে পারে শরীরের প্রোটিনের চাহিদা পূরণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ডিমই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর প্রোটিনের উৎস
পুষ্টিবিদের মতে, প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিমই সবচেয়ে কম দামে উচ্চমানের প্রোটিন সরবরাহ করে। মাছ বা মাংসের তুলনায় ডিমের দাম অনেকটাই কম হলেও পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ডিমে থাকা প্রোটিন শরীর খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারে, তাই একে 'হাই বায়োলজিক্যাল ভ্যালু' প্রোটিন হিসেবে ধরা হয়।
ডিমে রয়েছে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অ্যামিনো অ্যাসিড
ডিমে শুধু প্রোটিনই নয়, শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডও রয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, আয়রন, সেলেনিয়াম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদানও মেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের পেশি গঠন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কোষের পুনর্গঠনে ডিম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
নিরামিষভোজীদের ভরসা সয়াবিন ও ডালজাতীয় খাবার
যাঁরা নিরামিষভোজী, তাঁদের জন্য সয়াবিন অন্যতম সেরা বিকল্প। পুষ্টিবিদ জানিয়েছেন, সয়াবিনের প্রোটিনের গুণগত মান ডিমের খুব কাছাকাছি। ১০০ গ্রাম শুকনো সয়াবিনে প্রায় ৫২ গ্রাম পর্যন্ত প্রোটিন থাকে। এছাড়া মুসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, রাজমা, দুধ, দই ও পনিরও নিরামিষ প্রোটিনের ভালো উৎস।
শুধু সয়াবিন খেলেই হবে না, দরকার সুষম খাদ্যাভ্যাস
বিশেষজ্ঞদের মতে, সয়াবিনে প্রচুর প্রোটিন থাকলেও ডিমের মতো সব ধরনের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান এতে নেই। তাই নিরামিষভোজীদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ডাল, ফল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারও রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ও মিনারেল সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত প্রোটিন গ্রহণ জরুরি
প্রোটিন শরীরের পেশি, হাড়, ত্বক, চুল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে শুধু একটি খাবারের উপর নির্ভর না করে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রোটিন গ্রহণ করলে শরীর প্রয়োজনীয় অন্যান্য পুষ্টিও পায়।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার মানেই যে সবসময় বেশি খরচ, এমন ধারণা ভুল। পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম, সয়াবিন, মুসুর ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারের মতো সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী খাদ্য থেকেই শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের বড় অংশ পূরণ করা সম্ভব। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এগুলি হতে পারে আদর্শ বিকল্প।













