শীতের রাতে নিঃশব্দ পায়চারি
কনকনে শীত, গভীর রাত, নিস্তব্ধ বনভূমি—ঠিক সেই সময়েই বক্সা টাইগার রিজার্ভের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ছে এক পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের ছায়ামূর্তি। দিনের পর দিন সে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে, যেন নিঃশব্দে ঘোষণা করছে—এই জঙ্গলেই সে আছে, আর খুঁজছে তার সঙ্গিনীকে।
সঙ্গিনীর খোঁজে জঙ্গল জুড়ে অভিযান
বন দফতরের আধিকারিকদের মতে, এই পুরুষ বাঘের চলাফেরা নিছক বিচরণ নয়। এটি স্পষ্টতই মেটিং সার্চ বিহেভিয়ার—সঙ্গিনী খোঁজার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। যদি এই বাঘ বক্সা জঙ্গলেই সঙ্গিনী পায়, তবে এখানেই তার স্থায়ী বসতি গড়ে উঠতে পারে। আর তাতেই বাস্তব রূপ পাবে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বহুদিনের স্বপ্ন।
ট্র্যাপ ক্যামেরায় ফের ধরা, স্বস্তিতে বন দফতর
বাঘশুমারি চলাকালীনই আবারও ধরা পড়েছে সেই বাঘের ছবি। শুধু ছবি নয়, বিভিন্ন জায়গায় মিলেছে তার পায়ের ছাপও। এতে নিশ্চিত হয়েছেন বনকর্মীরা—বাঘটি সক্রিয়, সুস্থ এবং জঙ্গলে স্বচ্ছন্দে বিচরণ করছে। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের উপস্থিতি মানেই বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় থাকার ইঙ্গিত।
পশ্চিম বক্সায় ‘রাজকীয়’ উপস্থিতি
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পশ্চিম বিভাগেই মূলত দেখা যাচ্ছে বাঘটিকে। একের পর এক নতুন ছবি সামনে আসায় বনজুড়ে খুশির হাওয়া। ডিএফডি হরিকৃষ্ণন পিজে নিজেই রাতে তোলা ট্র্যাপ ক্যামেরার ছবি সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন, যা আরও আশাবাদী করেছে বন দফতরকে।
ভুটান থেকে আগমন, না কি পুরনো বাসিন্দা?
এই বাঘটি আদৌ বক্সারই বাসিন্দা, নাকি ভুটান সীমান্ত পেরিয়ে এ জঙ্গলে প্রবেশ করেছে—সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি বন দফতর। তবে গাঙ্গুটিয়া ও ভুটিয়াবস্তি এলাকা ফাঁকা হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে বাঘের দেখা মিলছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে—জঙ্গলে একাধিক বাঘের উপস্থিতি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংরক্ষণের পথে বড় সাফল্যের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি বক্সায় প্রাকৃতিকভাবে বাঘের সংখ্যা বাড়ে, তবে তা হবে সংরক্ষণ প্রচেষ্টার এক বড় সাফল্য। মানুষের চাপ কমা, নিরাপদ করিডর ও নিবিড় নজরদারির ফলেই বাঘ ফের জঙ্গলে ফিরছে—এই ধারণাই আরও জোরালো হচ্ছে।
হিমেল শীতেও থেমে নেই জীবনের ডাক। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের গভীর জঙ্গলে এক পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের নিয়মিত উপস্থিতি ধরা পড়ছে ট্র্যাপ ক্যামেরায়। সঙ্গিনীর খোঁজে তার এই নিরন্তর বিচরণ নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ব্যাঘ্র সংরক্ষণে।











